বাংলাদেশ

‘সম্পর্কের নতুন সূচনা’, বলছে মিশর

<![CDATA[

মিশরের স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ ও করমর্দন করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তাদের এ করমর্দনকে দুই দেশের মধ্যে ‘সম্পর্কের নতুন শুরু’ হিসেবে অভিহিত করেছে কায়রো।

রোববার (২০ নভেম্বর) দোহায় কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধন হয়েছে। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি। অনুষ্ঠানের ফাকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির উপস্থিতিতে আল সিসির সঙ্গে প্রথমবারের জন্য করমর্দন করেন এরদোগান।

এরপর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই নেতার করমর্দনের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। আল-সিসির সঙ্গে সাক্ষাতকে সম্পর্ক মেরামতের নতুন পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন এরদোগান।

এ ঘটনার একদিন পর সোমবার (২১ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে মিশরের প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্র বলেন, ‘সাক্ষাতে প্রেসিডেন্ট আল-সিসি ও প্রেসিডেন্ট এরদোগান দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্কের গভীরতার কথা তুলে ধরেন।’ এর মধ্য দিয়ে উভয় দেশের মধ্যকার ৯ বছরের ফাটল সারিয়ে নিতে মিশর প্রস্তুত বলেও জানান ওই মুখপাত্র।

আরও পড়ুন: আবারও উত্তেজনা, ইরান-ইসরাইল দ্বন্দ্বের নেপথ্যে কী?

২০১৩ সালে মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মিশরের প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলে নেন তৎকালীন সেনাপ্রধান আল-সিসি। পরে সিসিকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানায় তুরস্ক। এই ঘটনার পর প্রায় এক দশক ধরে দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্ক নড়বড়ে অবস্থায় আছে।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে এরদোগান জানান, মিসরের রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি না দিলে সিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না তিনি। মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানায়, মিসর দেশটির ৬৫ হাজার রাজনৈতিক নেতাকে কারাবন্দি করে রেখেছে।

সে সময় এরদোগান বলেন, ‘আমি এই ধরনের কোনো মানুষের সঙ্গে কখনো সাক্ষাৎ করব না। তাকে প্রথম সব বন্দিদের সাধারণ ক্ষমা করে মুক্তি দিতে হবে। যতদিন পর্যন্ত তিনি কাজটি না করবেন, আমরা সিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করব না।’

আরও পড়ুন: সিরিয়া-ইরাকে একযোগে তুরস্কের অভিযান, নিহত ৩১

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী বছর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট এরদোগান মিসর ও সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

কাতারে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে এরদোগান ও আল-সিসি ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন। এরা হলেন- সৌদি আরবের প্রধানমন্ত্রী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ, আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আব্দেলমাজেদ তেবুন ও ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস প্রমুখ।
 

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!