সাকিব-লিটন জ্বলে উঠলে বাংলাদশ হারাতে পারে বড় দলকেও
<![CDATA[
টি-টোয়েন্টিতে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা বিশ্বকাপ দিয়েই ঘোচাতে চায় বাংলাদেশ। বোলিংয়ের পাশাপাশি রানে ফেরা অধিনায়ক সাকিবেই বাজি ম্যানেজমেন্টের। অস্ট্রেলিয়ায় হওয়া ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের মতো এবারও সাকিবের কাছ থেকে অলরাউন্ড পারফম্যান্সের প্রত্যাশা প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর। সঙ্গে টপ অর্ডারে লিটনের কাছে চাইলেন বড় স্কোর। বলছেন এ’দুজন জ্বলে উঠতে পারলে অসম্ভব নয় বড় দলগুলোকে হারানোও।
তার ব্যাটে ভর করে বসন্ত। তার ঘূর্ণিজাদুতে রূপকথারা হয় সত্যি। কল্পনা ধরা দেয় বাস্তবে। খাদের কিনারা থেকে শক্ত কাঁধে দলের ভার কতবার যে একাই বহন করেছেন সাকিব, সে গল্প বলতে গেলে হয়তো ফুরিয়ে যাবে রাত।
টি-টোয়েন্টির এই ফরম্যাটটা যে দূর্ভেদ্য রহস্যজট বাংলাদেশের কাছে। টানা ব্যর্থতায় সমালোচনার তীর মনকে করছে এফোঁড় ওফোঁড়। তবুও তাসমান সাগড় পাড়ে তাদের হাত ধরেই তো উড়বে লাল সবুজ। একবুক প্রত্যাশা আর দুচোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে যে মানুষটায় দৃষ্টি থাকবে সবার তিনি সাকিব আল হাসান।
আরও পড়ুন:একটা ম্যাচ জিতলেই পরিস্থিতি বদলে যাবে
আসর শুরুর আগেই নবীকে হটিয়ে অলরাউন্ডারের শীর্ষ মসনদ ফিরে পাওয়া মিস্টার সেভেন্টিফাইভকে যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাবে তা নিশ্চিত। বোলিংয়ে আগেই ছিলেন ক্ষুরধার, এবার ব্যাটে ফিরেছে রান। সাকিবে তাই দৃষ্টি সবার, সাকিবেই তাই খুঁজছে স্বস্তি।
১০৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলা সাকিব ব্যাট হাতে ২১৯৯ রান করেছেন ২৩.৯০ গড়ে। স্ট্রাইকরেটটাও বাংলাদশের প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যবান; ১২২.৪৩। সমান সফল বল হাতেও। ২০.৮৯ গড়ে ১২২ উইকেট। ইকোনমি রেট তো যে কারো জনই ঈর্ষাজাগানিয়া; ৬.৭৩। এমন অলরাউন্ডার দলে থাকা মানে তো বাড়তি একজনকে নিয়ে খেলা!
বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু বলেন, ‘ক্যাপ্টেন যদি বেস্ট পারফর্মার হয় আর সঙ্গে সবাই যদি ওকে ফলো করে, ইনশাআল্লাহ, ভালো রেজাল্ট দেখতে পারব আমরা।’
প্রত্যাশার এই গল্পে আছেন আরো একজন। তিনি বাংলার দৃষ্টিকটু আর নাজুক ব্যাটিংলাইন আপেও হিমালয়সম দৃঢ়তা নিয়ে বরাবরই প্রতিরোধের দেয়াল তোলা লিটন দাস। অথচ বছর খানেক আগেও লিটনের ব্যাটিং নিয়ে সেকি সমালোচনা সবার। সেই লিটন চলতি বছর আন্তর্জাতিক রান সংগ্রাহকের তালিকায় আছেন শীর্ষ পাঁচে।
৬০ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ২১.৭৪ গড়ে ১২৬১ রান লিটনের। স্ট্রাইকরেট ১২৭.৬৩। এবারের বিশ্বকাপেও লিটনের ব্যাটে তাকিয়ে ম্যানেজমেন্ট।
আরও পড়ুন:বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ কারা?
নান্নু বলেন, ‘লিটন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটার এখন সবদিক চিন্তা করলে। লিটন যথেষ্ট ট্যালেন্টেড ক্রিকেটার। অন্যতম সেরা ব্যাটারের কাছে থেকে আমরা সেরা ক্রিকেটটাই দেখতে চাইব। সবার কন্ট্রিবিউশনটা যদি সব জায়গায় একটু একটু করে হয়, ঠিকমতো থাকে, পজিটিভ থাকে, তবে ভালো কিছুই হবে।’
আহত বাঘ ভয়ংকর সবসময়ই। দেয়াল পিঠ ঠেকে যাওয়া বাংলাদেশ নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ এর আগেও দিয়েছে বহুবারই। এবার আরো একবার সক্ষমতা প্রমাণের লড়াই। প্রত্যাশার যে গল্পে বড় দায়িত্বটা যে নিতে হবে সাকিব-লিটনকেই।
]]>




