সিত্রাংয়ে লণ্ডভণ্ড দেড় হাজার বিঘা জমির কলাবাগান
<![CDATA[
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের তাণ্ডবে ফরিদপুর সদর উপজেলার পদ্মার তীরবর্তী ডিক্রিরচর ও নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের কলাবাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে এ দুটি ইউনিয়নের প্রায় দেড় হাজার বিঘা জমির কলাবাগান। ফলে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বাগান মালিকেরা। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে আয়ের একমাত্র পথ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কলা বাগানের মালিকেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুর জেলার ডিক্রিরচর ও নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের চরাঞ্চলবাসীর অন্যতম প্রধান ফসল হচ্ছে কলা চাষ। চরাঞ্চলের মাটি কলা চাষের উপযোগী এবং লাভজনক হওয়ায় এ অঞ্চলের বিশাল এলাকাজুড়ে করা হয়েছে কলাবাগান। ডিক্রিরচর ইউনিয়নের পদ্মার চরের মোহন মিয়ার হাটের ৩৮ দাগ, সামাদ মাদবরের ডাঙ্গী ইমান আলী মাদবরের ডাঙ্গী, ভূঁইয়া ডাঙ্গী, কাজেম মাদবরের ডাঙ্গী, মিলন পালের ডাঙ্গীতে ব্যাপক হারে কলাবাগান করা হয়। এ ছাড়া নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৩৮ দাগ, মনসুরাবাদ, কবিরপুর চর, চর সালেপুর, হাজারবিঘা কলাবাগানের আবাদ করা হয়। সব মিলিয়ে এ দুই ইউনিয়নে প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড়ে জন্ম নেয়া শিশু সিত্রাংয়ের বাসায় জেলা প্রশাসক
ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিকের মধ্যে আমিন উদ্দিনের একশ বিঘা, মো. জাহাঙ্গীরের ৭০ বিঘা, আমজাদ সিকদারের ৪০ বিঘা, আব্দুর রাজ্জাকের ৩৫ বিঘা, মো. নইমুদ্দিনের একশ ৫০ বিঘা, কাদের খাঁ এর ৮০ বিঘা, সেকেন মোল্লার ২০ বিঘা, আবুল কাসেমের ২০ বিঘাসহ মোট ৫৫০ কলাবাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের কারণে প্রতিটি বাগানের বেশীর ভাগ কলা গাছ ভেঙে গেছে।
বাগান মালিকেরা জানান, আর এক সপ্তাহ পড়েই তারা কলাগুলো বিক্রি করতে পারতেন। ইতোমধ্যেই অনেক কলা ব্যবসায়ী বাগান মালিকদের কাছে টাকা দিয়ে রেখেছিলেন। বাগান ধ্বংস হবার কারণে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন বাগান মালিকেরা। যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা কোন মতেই কাটিয়ে উঠা সম্ভব নয় বলে বাগান মালিকেরা জানান।
কলাবাগানের মালিক আবুল কাসেম জানান, তিনি গত কয়েকদিন আগে তার বাগানের বেশকিছু কলা বিক্রি করেছেন। কয়েকদিন পর সব কলা তিনি বিক্রি করতে পারতেন।
তিনি আরও জানান, তার বাগানের ৫ হাজার কলাগাছ নষ্ট হয়েছে। তাতে করে তিনি প্রায় ২২/২৩ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
আরেক বাগান মারিক আমির উদ্দিন জানান, তিনি গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশী পরিমাণ জমিতে কলার আবাদ করেছিলেন। তার বাগানের সমস্ত গাছই ভেঙে গেছে। ফলে তিনি ১ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
অন্য এক বাগান মালিক মো. জাহাঙ্গীর জানান, তিনি ধার দেনা করে এ বছর কলা বাগান করেছেন। ঝড়ের কারণে তার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এ বছর তিনি একেবারেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। কিভাবে তিনি ঋণ শোধ করবেন তা নিয়ে দিশাহারা অবস্থায় রয়েছেন।
আরও পড়ুন: সিত্রাংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়েছে মাউশি
কলা বাগান মালিকেরা জানান, এ বছর তারা প্রায় ১৫-১৬ কোটি টাকা ব্যয় করে কলা বাগান করেছিলেন। এসব বাগানের কলা বিক্রি করে তাদের আয় হবার কথা ছিল ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার।
ক্ষতিগ্রস্ত কলা বাগান মালিকদের ক্ষতির বিষয়টি সরকারের নজরে দেবার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. জিয়াউল হক।
তিনি বলেন, কলা বাগান মালিকদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করার কাজ চলছে। সরকারের তরফ থেকে তাদের সহযোগিতা করা হবে।
]]>




