সিত্রাং কেড়ে নিল কৃষক তামেজের স্বপ্ন
<![CDATA[
উপকূলজুড়ে ক্রমাগত বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। নষ্ট হচ্ছে ফসল, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উপকূলীয় কৃষকের অর্থনীতি। তেমনি একজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পটুয়াখালী দুমকি উপজেলার তাজেম আলী মৃধা। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে তার স্বপ্নের কৃষি প্রকল্পে মুহূর্তে মাটিতে মিশে গেছে। ক্ষতি হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। তবে উপজেলা কৃষি অধিদফতর থেকে সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
পটুয়াখালী দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের উত্তর মুরাদিয়া গ্রামের তাজেম আলী মৃধা। মহামারি করোনায় গার্মেন্টস ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নতুন স্বপ্ন নিয়ে নিজের চাষের জমি বিক্রি করে অন্যের কাছ থেকে কয়েক একর জমি বর্গা নিয়ে গড়ে তোলেন মিশ্র ফল, সবজি এবং মাছের খামার। তার নিবিড় পরিচর্যায় বাগানটি ফুলে ফলে ভরে ওঠেছে। মাছের খামার ভরপুর ছিলো কয়েক জাতের মাছে। দেখছিলেন সচ্ছলতার স্বপ্ন। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং তাকে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে।
জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে ঘেরের প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছ। কাঁচা-পাকা ফল নিয়ে মাটিতে লুটে পড়েছে কয়েকশ পেঁপে গাছ। প্রতি গাছে ছিল ২০-২৫ কেজি পেঁপে। শীতকালীন শাকসবজিসহ ঝরে পড়েছে কয়েক জাতের উচ্চ ফলনশীল আগাম বরই গাছের ফুল-ফল।
বাগানের এমন দৃশ্যে কৃষক তাজেম আলীর বোবা কান্নায় পরিবেশ স্তব্ধ হয়ে যায়। উৎকণ্ঠা দেখা যায় প্রতিবেশীদের চোখেমুখে। ঝড়ে মিশে যাওয়া ফলের গাছ সরিয়ে নিলেও কিছু গাছ এখনও মৃতপ্রায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। অল্প যা কিছু গাছ বেঁচে আছে সেগুলোও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। চোখের পলকে এমন ক্ষতিতে দিশেহারা তামেজ আলী।
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং /ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারকে নৌবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ
পটুয়াখালী দুমকি উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার জানান, সরেজমিনে জানা গেছে কৃষক তামেজ আলীর মাছ, সবজি ও ফলসহ প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সরকারিভাবে তাকে সহযোগিতা করা হবে।
অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সরকারি সহায়তা দেয়ার কথা জানিয়েছেন পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজহারুল ইসলাম।
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে জেলায় প্রায় ২০০ পুকুর এবং মাছের ঘের থেকে প্রায় ৪০০ মেট্রিকটন মাছ ও পোনা বের হয়ে গেছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা বলে জানান মৎস্য বিভাগ। এছাড়া ১২০০ একর রোপা আমনসহ ৪০০ একর জমির সবজি নষ্ট হয়েছে।
]]>




