সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিবুর রহমান স্বপন মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোরে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৬৬ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সাবেক এই শিল্প উপমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আশিকুর রহমান দিনার সময় সংবাদকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তুরস্কের একটি হাসপাতালে কিডনি ট্রান্সফর করেন এমপি স্বপন। সফল অস্ত্রপচার শেষে সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন তিনি। এ অবস্থায় গত ২৫ জুলাই করোনায় পাশাপাশি আবারও কিডনি জটিলতা দেখা দেয়। গত ২৯ আগস্ট তাকে আবারো তুরস্কে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে মারা যান তিনি।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) হাসিবুর রহমান স্বপনের মরদেহ বাংলাদেশে আনা হবে। এরপর শাহজাদপুরে নিজ নির্বাচনী এলাকায় জানাযা শেষে দাফন সম্পন্ন হবে।
অন্যদিকে, শাহজাদপুরের সাবেক সংসদ সদস্য চয়ন ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘সকলকে চোখের জলে ভাসিয়ে এভাবে চলে গেলেন স্বপন ভাই? ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে আর কোনোদিন দেখা হবে না আপনার সাথে। কত স্মৃতি কত সুখ-বেদনার গল্প আর হবে না আপনার সাথে। যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমাদের প্রিয় নেতা প্রিয় মানুষ সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন ভাই আজ ভোর রাতে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। রাব্বুল আলামিন আমাদের প্রিয় নেতা স্বপন ভাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।’
হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০ দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন সিরাজগঞ্জ-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ক্ষমতাসীম আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। সে সময় বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করলে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পাশাপাশি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
হাসিবুর রহমান স্বপনের জন্ম ১৬ জুন ১৯৫৬ পৈতৃক বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার দ্বারিয়াপুর গ্রামে। তার মৃত্যুতে তার নির্বাচনি এলাকাসহ পুরো সিরাজগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




