সুইসদের বিপক্ষে ড্রয়ের বৃত্ত ভাঙতে পারবে তো ব্রাজিল?
<![CDATA[
হেক্সা মিশনে ব্রাজিলের পরবর্তী প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। এ ম্যাচ জিতলে অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যাবে সেলেসাওদের শেষ ষোলোর টিকিট। তবে দুশ্চিন্তার কারণ, বিশ্ব আসরে এখন পর্যন্ত সুইসদের বিপক্ষে ড্রয়ের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি ব্রাজিল।
৯৭৪ স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘জি’-এর লড়াইয়ে সোমবার (২৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।
ফিফা বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ব্রাজিল দুবার দেখা পেয়েছে সুইসদের। দুবারই ইউরোপিয়ান এ আন্ডারডগদের সঙ্গে ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। বিশ্ব আসরে দুই দলের প্রথম দেখা ১৯৫০ সালে। সেবার দুই দলের ৯০ মিনিটের লড়াই শেষ হয় ২-২ গোল সমতায়। এরপর ৬৮ বছরের বিরতি কাটিয়ে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে আবার দেখা হয় এ দুই দলের। এ ম্যাচেও ১-১ গোলের ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় সেলেসাওদের।
সব মিলিয়ে মোট নয়বারের দেখায় ব্রাজিলের জয় ৩ আর সুইসদের ২। বাকি ৪ ম্যাচ শেষ হয়েছে গোল সমতায়। তবে অতীত পরিসংখ্যান বাদ দিলে ব্রাজিলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে, এবার ভাঙছে ড্রয়ের সে বৃত্ত। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে থাকা সেলেসাওরা এবার কেন ১৫ নম্বরে থাকা সুইস দুর্গ ভেঙে জয় তুলতে পারে, সে বিশ্লেষণ থাকছে এ প্রতিবেদনে।
নিজেদের শেষ ১৬ ম্যাচে কোনো হার নেই ব্রাজিলের। ১৩ জয় আর ৩ ড্র নিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে সেলেসাওরা। অন্যদিকে জয় পেতে রীতিমতো ধুঁকছে সুইসরা। শেষ ১০ ম্যাচের ৪টিতেই হেরেছে তারা। ড্র আছে একটিতে। প্রতিপক্ষের জালে ৯ গোল দেয়ার বিপরীতে সুইসরা হজম করেছে ১৪টি। বিপরীতে শেষ ১৬ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে নেইমাররা জড়িয়েছে ৪০ গোল, যা প্রায় সুইসদের তুলনায় সাড়ে চার গুণ। আর হজম করেছে মাত্র ৫ গোল।
আরও পড়ুন: নেইমারকে নিয়ে সুখবর পেল ব্রাজিল
বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলা যাক। নিজেদের প্রথম ম্যাচে সার্বিয়ানদের জালে রিচার্লিসন জড়িয়েছেন দুই গোল। ওই ম্যাচে ব্রাজিলিয়ানরা শট নিয়েছে ২৩টি। যেখানে অন টার্গেট শটই ছিল ৯টি। বিপরীতে প্রতিপক্ষ সার্বিয়া কোনো শটই নিতে পারেনি। অন্যদিকে নিজেদের প্রথম ম্যাচে র্যাঙ্কিংয়ে ২৮ ধাপ পেছনে থাকা ক্যামেরুনের বিপক্ষে নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স ছিল সুইসদের। ক্যামেরুনের নেয়া ৮ শটের বিপরীতে তারা শট নিয়েছে মাত্র ৭টি। সুইসদের ৩টির বিপরীতে ক্যামেরুনের অন টার্গেট শট ছিল ৫টি।
ব্রাজিলের রক্ষণদুর্গ ভেঙে সার্বিয়ার সেরা আক্রমণভাগও যেখানে কোনো অন টার্গেটে শট নিতে পারেনি, সেখানে সুইসদের বিপক্ষে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ক্যামেরুন অন টার্গেটে শট নিয়েছে ৫টি। যেটা সুইসদের নড়বড়ে রক্ষণকে বারবার সামনে নিয়ে আসছে। প্রথম ম্যাচে আর সুইসদের ফর্মেশন ছিল ৪-২-৩-১। একই ফর্মেশন ব্রাজিলের বিপক্ষে থাকলে সুযোগ লুফে নেবেন রিচার্লিসনরা। কারণ, সুইসরা গোল করার উদ্দেশ্যে ওপরে উঠলে উল্টো ব্রাজিল চেপে ধরার সুযোগ পাবে।
সুইজারল্যান্ডের শক্তির জায়গা বলতে গোলরক্ষক ইয়ান সমারই। পারফরম্যান্স বিচারে ভালোই ছন্দে আছেন মুনশেনগ্লাডবাখের এ অতন্দ্র প্রহরী। তবে প্রতিপক্ষের অ্যালিসন বেকারের তুলনায় তিনি কেবল গোলরক্ষক-ই।
এদিকে শেষ ম্যাচে ব্রাজিল স্ট্রাইকার রিচার্লিসন যেভাবে বল জালে পাঠিয়েছেন তাতে মনে হচ্ছে সমারের পক্ষে দলকে বেশিক্ষণ ক্লিনশিট রাখা অসম্ভব হয়ে উঠবে। রাফিনিয়া, ভিনিসিউস, রদ্রিগোদের নিয়ে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে যে গতি, তাতে সুইসদের রক্ষণদুর্গ টিকিয়ে রাখা বেশ কঠিনই।
আরও পড়ুন: নেইমারের জার্সি উপহার পেলেন তামিম
অন্যদিকে থিয়াগো সিলভা,অ্যালেক্স সান্দ্রো, মারকুইনসরা সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পারফরম্যান্স ধরে রাখলে এমবোলো, বার্গাস, শাকিরিকে নিয়ে গড়া সুইসদের আক্রমণভাগের পক্ষে ব্রাজিলের রক্ষণদুর্গ ভাঙা অসম্ভব।
সব দিক বিচার-বিশ্লেষণে আশা করাই যায়, এবার বিশ্বমঞ্চে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ড্রয়ের বৃত্ত ভাঙতে যাচ্ছে ব্রাজিল। যদিও দলের প্রাণভোমরা নেইমার জুনিয়রের অনুপস্থিতি কিছুটা হলেও দলের ছন্দে প্রভাব ফেলবে।
লেখক: তুহিন ইমরান
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
]]>




