সেই মরিয়ম মান্নানের মা ফের নিখোঁজ!
<![CDATA[
খুলনার বহুল আলোচিত রহিমা বেগম ফের নিখোঁজ হয়েছেন বলে খবর রটেছে। গত দুই দিন ধরে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না- এমন এমন গুজব সোমবার (১৭ অক্টোবর) দিনব্যাপী খুলনায় ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার মেয়ে মরিয়ম মান্নানের বরাত দিয়ে এ সংক্রান্ত খবরও প্রকাশিত হয়। তবে রহিমা বেগমের আরেক মেয়ে আদুরী খাতুন জানিয়েছেন, তার মা নিখোঁজ হননি। বরং তার সঙ্গে খুলনার বাসাতেই আছেন।
বিকেলে কিছু গণমাধ্যমে খবর আসে ফের দুই দিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না খুলনার আলোচিত রহিমা বেগমকে। সে খবরে রহিমা বেগমের মেয়ে মরিয়ম মান্নানের বরাত দিয়ে বলা হয়, তার মা খুলনার বাসা থেকে কোথাও বের হয়ে গিয়েছেন, তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে এ বিষয়ে তারা কোনো অভিযোগ দিবেন না। তবে সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে তার আরেক মেয়ে আদুরি খাতুন জানান, তার মা তার সঙ্গে পিবি বাসাতেই আছেন। কে বা কারা এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে।
তিনি প্রশ্ন রেখে আরও বলেন, আদালত আমার মাকে আমার জিম্মায় দিয়েছেন। সুতরাং তার খোঁজ নেয়ার বিষয় হলে আমাকে প্রশ্ন করা উচিত। আমার মা তো মুক্ত। তিনি কোনো অপরাধী নন। তিনি তো বাইরে বের হতেই পারেন। যেকোনো জায়গায় বেড়াতে যেতে পারেন।
এর আগে, রহিমা বেগম স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে যাওয়ার পর এ সংক্রান্ত মামলার তদন্ত করছিল পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
এ বিষয়ে পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আদালত রহিমা বেগমকে তার মেয়ে আদুরী বেগমের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি এখন কোথায় আছেন সেটি আমাদের দেখার বিষয় না। তার মেয়ে ও রহিমা বেগম কোথাও চলে গিয়েছেন কিনা এমন কোনো খবর আমাদের কাছে নেই।
আরও পড়ুন: অপহরণ নাটক সাজিয়ে আত্মগোপন, মায়ের বিরুদ্ধে ছেলের জবানবন্দি
এদিকে সোমবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২২ ধারায় এ জবানবন্দী দিয়েছেন খুলনার আলোচিত রহিমা বেগমের ছেলে মিরাজ আল সাদী।
তিনি জানান, তার মা অপহরণের নাটক সাজিয়েছেন। তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। কিন্তু তিনি আদালতে ভুল জবানবন্দী দিয়েছেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে তার খারাপ লেগেছে। এ কারণে মিরাজ আল সাদী ২২ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিতে চান।
পরে মিরাজ আল সাদীকে আদালতে নেয়া হলে জবানবন্দী দেন তিনি। জবানবন্দিতে তিনি একই বিষয় উল্লেখ করেন যে তার মা অপহরণ হননি। বরং স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। মায়ের এই আত্মগোপনের পেছনে তিনি কোনভাবেই জড়িত নন বলে আদালতে জানিয়েছেন মিরাজ আল সাদী। তিনি বলেছেন, কিছুই জানতেন না তিনি।
আরও পড়ুন: জীবিত উদ্ধার মা, ‘সাজানো নাটক’ নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন মরিয়ম মান্নান
গত ২৭ আগস্ট রাত ১০টার দিকে খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা উত্তর বণিকপাড়া এলাকার বাসার উঠানের নলকূপে পানি আনতে যান রহিমা বেগম। কিন্তু এক ঘণ্টা পরও তিনি বাসায় না ফেরায় তার সন্তানেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। নলকূপের পাশে তাদের মায়ের জুতা, ওড়না ও পানির পাত্র পড়ে থাকলেও মাকে তারা খুঁজে পাননি।
এ ঘটনায় ওই রাতেই রহিমা বেগমের ছেলে মিরাজ আল সাদী দৌলতপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় অপহরণ মামলা করেন মেয়ে আদুরী আক্তার। এ ছাড়া বিষয়টি র্যাবকেও জানানো হয়। এ মামলায় ছয়জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মায়ের সন্ধান চেয়ে ঢাকায় মানববন্ধনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাঁপ করে আসছিলেন সন্তানরা।
আরও পড়ুন: জীবিত উদ্ধার মা, ‘সাজানো নাটক’ নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন মরিয়ম মান্নান
এর মধ্যে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বওলা গ্রামের ঝোপ থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিজের মায়ের বলে দাবি করেন মরিয়ম মান্নান। ‘মরদেহ শনাক্তে’ এরপর তিনি ফুলপুর থানায় যান। সে সময় মরিয়ম মরদেহটি তার মায়ের দাবি করে নিয়ে যেতে চান। সেখানে মরদেহের পরিহিত কাপড় দেখেন।
এরপর মরিয়ম দাবি করেন, মরদেহটি তার মায়ের। পরে মরিয়ম মান্নান ফুলপুর থানায় ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন। নিখোঁজের ২৯ দিন পর ২৪ সেপ্টেম্বর খুলনা নগরের দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকা থেকে রহিমা বেগমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
]]>




