সৈয়দ নজরুল ইসলামের স্মৃতিঘেরা ছোট্ট টিনের ঘর
<![CDATA[
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের নিভৃত পল্লি বীরদামপাড়া। যেখানে জন্মেছিলেন দেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম। গ্রামের জল-কাদা গায়ে মেখে কাটে শৈশব। গ্রামের বাড়ির পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ সেই ছোট্ট টিনের ঘরটি এখনও তার স্মৃতি বহন করছে।
সৈয়দ নজরুল ইসলামের ডাকনাম ছিল ‘গোলাপ’। ছাত্রজীবনেই রাজনীতির হাতেখড়ি। স্বাধীনতার লড়াইয়ে কাটিয়েছেন ভরা যৌবন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে দেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায় শিল্পমন্ত্রী হন তিনি। সুযোগ পেলেই ছুটে আসতেন গ্রামের বাড়িতে। গ্রামবাসীর হৃদয়ে আজও জায়গা করে আছেন সংগ্রামী এ নেতা।
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্য তিন জাতীয় নেতার সঙ্গে ঘাতকদের বুলেটে নির্মমভাবে নিহত হন কিশোরগঞ্জের কৃতী সন্তান দেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। দেশের জন্য আত্মত্যাগী এ নেতার জন্য এখনও নীরবে চোখের জল ফেলেন জেলাবাসী।
ইতিহাসের শোকের পাতায় যে কটি নির্মম হত্যাকাণ্ড উল্লেখ আছে, তার মধ্যে জেলহত্যা অন্যতম। এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচার চান স্বজন ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে বীরদামপাড়ায় তার স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি সংরক্ষণ করে জাদুঘর নির্মাণের দাবি তাদের।
আরও পড়ুন: ‘জাতীয় ৪ নেতা হত্যাকাণ্ডেও জিয়া জড়িত’
কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজল বলেন, সৈয়দ নজরুল ইসলামের জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন প্রজন্ম সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর দেশ গড়ায় ভূমিকা রাখতে পারবে।
গ্রামের বাড়িতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্মৃতিসৌধ ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম।
১৯২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ৩ নভেম্বর পুরান ঢাকার তৎকালীন কেন্দ্রীয় কারাগারে তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানের সঙ্গে তাকে বুলেটের আঘাতে হত্যা করে ঘাতকরা।
]]>




