খেলা

স্টুডেন্ট ভিসা জরুরি ও বিশেষ সেবার আওতায় আনা হোক

<![CDATA[

জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দ্রুত সময়ে ভিসা প্রসেস করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে জার্মানি গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের ভিসা জটিলতা প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে জিলানী হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, দেড় বছরের অধিক সময় ধরে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তির পর তিন সেমিস্টার অপেক্ষা করেও (উইন্টার ২০২১, সামার ২০২২, উইন্টার ২০২২) জার্মানির ভিসা পাচ্ছে না। প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ক্লাসরুমভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। অনলাইনে আর ক্লাস করার সুযোগ দিচ্ছে না। অনেক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জার্মানিতে উপস্থিত থাকার ডেডলাইনও দিয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় আমাদের ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।  

আরও পড়ুন: ভিসা পেতে উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশীদের চাপ, ছুটির দিনেও কাজ

তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান। এর মধ্যে অন্যতম পছন্দের দেশ হলো জার্মানি। এ সব শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে গবেষণা এবং উন্নয়নখাতে দুই দেশেই অবদান রাখছে। তাই শিক্ষার্থী ভিসাকে জরুরি ও বিশেষ সেবা বিবেচনায় নিয়ে ভিসা কার্যক্রম পরিচালনা করতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।

২০২০ সালে বিশ্বে করোনা অতিমারির প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় প্রায় সব দূতাবাসের মতো জার্মান দূতাবাসও বন্ধ হয়ে যায়। ২০২০ সালের জুলাই মাসে দূতাবাস থেকে জানানো হয় ভিসা পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেয়ার পর ৯ মাস অপেক্ষা করতে হবে। এরপর নভেম্বর মাসে দূতাবাস থেকে নতুন করে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের ১২ মাস অপেক্ষা করতে হবে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সব কিছু দূতাবাসের বলে দেয়া সময় মতো হলেও এখন পর্যন্ত এ অপেক্ষার সময় ১৭-১৮ মাসে গিয়ে ঠেকেছে।

দূতাবাস থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেয়ার সময় পরিষ্কার ভাবে লেখা ছিল, বর্তমানে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১২ মাস অপেক্ষা করতে হবে। অর্থাৎ ২০২১ সালের জানুয়ারিতে যদি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেয়া হয় তবে ২০২২ এর জানুয়ারিতে কিংবা ফেব্রুয়ারিতে দূতাবাস থেকে যোগাযোগ করা হবে।

ইতোপূর্বে শিক্ষার্থীরা টুইটার সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ কয়েকবার এ নিয়ে দূতাবাসকে টুইট করে নিজেদের দাবির কথা জানান। তখন জার্মান রাষ্ট্রদূত জানিয়েছিলেন, আমাদের সব কর্মীরা তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এ অপেক্ষার সময়টা ১০-১২ মাসই থাকবে। তার চেয়ে কমানো সম্ভব হবে না।

যদিও বর্তমানে দূতাবাস থেকে বলা আছে অপেক্ষার এ সময়টা ১২ মাসের হবে কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। ভিসা পেতে বর্তমানে প্রায় ১৭-১৮ মাস সময় লাগছে। শিক্ষার্থীরা শঙ্কায় আছে যে, এ অপেক্ষার সময় সামনে আরও বাড়বে। কেননা জার্মানিগামী শিক্ষার্থীদের একটি ফেসবুক গ্রুপের এনালাইসিস থেকে বোঝা যাচ্ছে প্রতি ২০০ শিক্ষার্থীকে ভিসা দিতে দূতাবাস থেকে সাড়ে তিন মাস বা তার বেশি সময় নেয়া হচ্ছে। এভাবে চললে সামনের দিনগুলোতে এ অপেক্ষার সময় ২০-২৪ মাসে গিয়ে দাঁড়াবে।

আরও পড়ুন: বিদেশে উচ্চশিক্ষার আদ্যোপান্ত

এই অবস্থায় শিক্ষার্থীদের দাবি, জার্মান দূতাবাস যেন দ্রুততার সঙ্গে ভিসা জটিলতার অবসান ঘটায়। এবং ২০২১ সালের সব শিক্ষার্থীর ভিসা প্রসেসিং যেন চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ শেষ করে।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!