বাংলাদেশ

হংকংয়ে বিদেশি সাংবাদিককে প্রবেশে বাধা

<![CDATA[

২০১৯ সালে বিক্ষোভের ছবি তোলা জাপানি ফটোগ্রাফার মিচিকো কিসেকিকে বিমানবন্দরে আটকে দেয় হংকং কর্তৃপক্ষ। তিনি দেশটিতে নববর্ষ উদযাপনের পরিকল্পনা করছিলেন। মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে উঠে আসে এ তথ্য।

সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, বিমানবন্দরে নামার পর অভিবাসন কর্তৃপক্ষ কিসেকিকে সেখানেই আটকে দেয়। তাকে দেশটিতে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। ৩০ ডিসেম্বর জাপানে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয় তাকে।

এক টুইট বার্তায় কিসেকি জানান, হংকংয়ে ২০১৯ সালের প্রত্যর্পণ বিলবিরোধী যে বিক্ষোভ হয় তার ছবি তুলেছিলেন তিনি। সেসব ছবি নিয়ে তিনি জাপানে প্রদর্শনীও করেন। বিমানবন্দরে পুলিশ সেই বিষয়েও তাকে জেরা করে।

তিনি বলেন, একটি কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেশ কয়েকবার আমার আলোকচিত্র প্রদর্শনীর কথা তারা উল্লেখ করে। আমি জানতাম এমন পরিস্থিতি একদিন আসবে, তবে এত তাড়াতাড়ি তা প্রত্যাশা করিনি। ২০১৯ সালের ছবিগুলো প্রদর্শন করার জন্য আমার বিন্দুমাত্র আফসোস নেই। কারণ, সেগুলো ‘আমার প্রমাণ’। আমি পরিষ্কার বুঝতে পারছি হংকংয়ের স্বাধীনতা চলে গেছে।

হংকং জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (এইচকেজেএ) এই ঘটনাকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছে, কর্তৃপক্ষ যে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছে এই ঘটনা সেটাই প্রমান করে। কিসেকি হচ্ছে ২০১৮ সালের পর থেকে হংকংয়ে ঢুকতে না দেয়া চতুর্থ বিদেশি সাংবাদিক৷

আরও পড়ুন: খাদের কিনারে হংকংয়ের গণতন্ত্র

বিশ্লেষকরা বলছেন, হংকংয়ের পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা বিদেশি সাংবাদিক বা বিদেশি নাগরিকরা প্রবেশের চেষ্টা করলে যে তারা ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারেন এই ঘটনা তার প্রতিফলন। স্থানীয় গণমাধ্যমের ওপর দমন-পীড়ন নীতি বিদেশি সাংবাদিকদের উপরেও গড়াচ্ছে।

জাপানের মেইজি ইউনিভার্সিটির একজন গবেষকের মতে, ঘটনাটি উদ্বেগজনক, কারণ কর্তৃপক্ষ কেবল হংকংয়ে নয়, বরং বিদেশে কী ঘটছে সেটাও পর্যবেক্ষণ করছে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, হংকংয়ের বাইরে বসবাসরত মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য চীনা কর্তৃপক্ষ জাতীয় নিরাপত্তাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে। মনে হচ্ছে, জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (এনএসএল) এখতিয়ার হংকংয়ের সীমানা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

২০২০ সালের জুলাইয়ে এনএসএল কার্যকর হওয়ার পর থেকে হংকংয়ের কর্তৃপক্ষ স্বাধীন গণমাধ্যম, গণতন্ত্রপন্থি রাজনীতিবিদ এবং তরুণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আইনটি ব্যবহার করে আসছে।

আরও পড়ুন: হংকংয়ের মিডিয়া মোগল জিমি লাইকে ছয় বছরের কারাদণ্ড

গত সপ্তাহে রাষ্ট্র সমর্থিত সংবাদপত্র কমার্শিয়াল ডেইলিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি দাবি করেন, শহরের কিছু লোক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অর্জন বা ‘অর্থ পাচারের’ জন্য সাংবাদিকতাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এনএসএল কার্যকর হওয়ার পর থেকে গণমাধ্যমের পেশাদারিত্বের উন্নতি হলেও কিছু লোক সাংবাদিকতার ছদ্মবেশে তাদের ব্যক্তিগত লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের সহযোগী পরিচালক মায়া ওয়াং এ প্রসঙ্গে বলেন, লি’র মন্তব্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি অব্যাহত ও গভীর শত্রুতার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত। হংকংয়ে সাংবাদিকতা সত্যিই কঠিন। অনেক সাংবাদিক শহর ছেড়ে চলে গেছেন। কেননা, সেখানকার পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের তথ্য মতে, গত দুই বছরে হংকংয়ে কমপক্ষে ২৩ জন সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন এখনো আটক রয়েছেন।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!