১৫১ প্রতিমায় জেলার বড় আয়োজন বাগেরহাটের যে মণ্ডপে
<![CDATA[
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজাকে ঘিরে চলছে শেষমুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরি শেষে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সাজসজ্জার কাজ। শেষমুহূর্তের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগর ও আয়োজকরা।
বাগেরহাটও ব্যতিক্রম নয়। জেলায় এবার ৬৬৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৬৮টি মণ্ডপে পূজা হবে চিতলমারী উপজেলায়।
এ ছাড়া বাগেরহাট সদর উপজেলায় ১১৬টি, মোল্লাহাটে ৮৪টি, মোরেলগঞ্জে ৭৭টি, ফকিরহাটে ৬৮টি, কচুয়ায় ৪৪টি, রামপালে ৪১, মোংলায় ৩৭টি এবং শরণখোলায় ২৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের দুর্গাপূজায় ১৫১ প্রতিমা নিয়ে জেলার সবচেয়ে বড় আয়োজন হচ্ছে সদর উপজেলার চুলকাঠি বণিকপাড়া মণ্ডপে। বণিকপাড়ার এই মণ্ডপ ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বণিকপাড়া মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, মণ্ডপের বাইরের গেট ও সাজসজ্জার কাজ করছেন শ্রমিকরা। মূল মণ্ডপের ভেতরে প্রবেশ করতেই দুই পাশে বিভিন্ন নামের দেব-দেবীর প্রতিমার সারি। সর্বশেষ মূল মণ্ডপে রয়েছে মা দুর্গা ও তার সহযোগী দেবীদের প্রতিমা।
দুই মাস ধরে ৪ জন কারিগর রামায়ণ ও মহাভারতের চার যুগের দেবদেবীর নানা কাহিনী অবলম্বনে তৈরি করেছে ১৫১টি প্রতিমা। কারিগর তাদের নিপুণ হাতে প্রতিমা ফুটিয়ে তুলেছেন ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য। মূল পূজা শুরু না হলেও এখনই বিভিন্ন স্থান থেকে জেলার সব থেকে বড় এই আয়োজন দেখতে আসছেন দর্শনার্থীরা।
খুলনা বিএল কলেজের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ডলি দত্ত বলেন, এত বড় আয়োজন আমরা আগে কখনো দেখিনি। খুব ভালো লাগছে আমাদের।
আরও পড়ুন: যে মন্দির থেকে ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ে দুর্গাপূজা
দেবী দত্ত নামের স্থানীয় এক গৃহবধূ বলেন, শুধু হিন্দু সম্প্রদায় নয়, মুসলিমরাও আসছেন এই প্রতিমা দেখতে। স্থানীয় সবাই একসঙ্গে মিলে আমরা এই উৎসব উদ্যাপন করি। এবার ১৫১টি প্রতিমার কথা শুনে দূরদূরান্ত থেকে অনেকে খোঁজ নিচ্ছেন আসার জন্য।
রবিউল ইসলাম নামের এক দর্শনার্থী বলেন, এত বড় আয়োজন এখানে আগে কখনও হয়নি। আশা করি, অনেক লোক আসবে, আমরা বেশ আনন্দিত জাঁকজমক আয়োজন দেখে।
প্রতিমার তৈরির কারিগর গণেশ সরকার বলেন, ১৫১টি প্রতিমার মাধ্যমে আমরা রামায়ণ ও মহাভারতের চার যুগের দেবদেবীর নানা কাহিনী ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আশা করি, দর্শনার্থী ও ভক্তদের ভালো লাগবে।
বণিকপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সভাপতি দীপঙ্কর কুমার সাধু বলেন, করোনার কারণে দুই বছর দুর্গাপূজায় আমরা ঠিকঠাক আয়োজন করতে পারিনি। এবার মনের মতো আয়োজন করেছি। জেলার মধ্যে এটাই বড় আয়োজন। আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ। আশা করি, অনেক লোকজনের সমাগম হবে।
আরও পড়ুন: ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেল দুর্গাপূজা উৎসব
এদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে পারে সে জন্য কাজ করছে জেলা পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি মণ্ডপে আনসার সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবে। এর পাশাপাশি মণ্ডপ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকও থাকার কথা রয়েছে। তবে প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা থাকার কথা থাকলেও বেশির ভাগ মণ্ডপে তার উপস্থিতি নেই।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক বলেন, প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে বিসর্জন প্রদান অর্থাৎ দশমী পর্যন্ত আমরা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। আশা করি, সবাই মিলে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে পারব।
আগামী ১ অক্টোবর মহালয়ার মধ্যে দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হবে। বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) দশমী ও বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গা মহোৎসব শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
]]>




