১৭ বছর পালিয়ে থাকার পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির আত্মসর্মপণ
<![CDATA[
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে অপহরণ মামলায় ১৭ বছর পালিয়ে থাকার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন যাবজ্জীবন ও ১৪ বছরের সাজা প্রাপ্ত দুই আসামি। রোববার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে আইনজীবীর মাধ্যমে নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করলে ওই দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৩ মার্চ সন্ধ্যায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা শহরের দক্ষিণ রাজীর গ্রামের সুপারী ব্যবসায়ী আবুল হোসেনের মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী লাবনী আক্তারকে (১২) বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে প্রতিবেশী টুললু মাহমুদ ও জোবেদা বেগম ভেকরী।
এ ঘটনার দুইদিন পর ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে টুললু মাহমুদ ও জোবেদা বেগম ভেকরীসহ ছয়জনের নামে কিশোরগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা দায়েরের তিন দিনের মাথায় অক্ষত অবস্থায় অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৫ মে টুললু মাহমুদ ও জোবেদা বেগম ভেকরীকে পলাতক দেখিয়ে দুইজনের বিরুদ্ধে নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নম্বর ২ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
আরও পড়ুন: হত্যার ৩০ বছর পর ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
পরে মামলার ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০২২ সালের ১২ জুন দুই আসামির অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করে আদালত। ওই রায়ে প্রধান আসামি টুললু মাহমুদকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং তার সহযোগী জোবেদা বেগম ভেকরীকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশ দেন নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. মাহাবুবুর রহমান।
মামলা দায়ের ১৭ বছর ধরে ওই দুই আসামি পলাতক থাকেন এবং রায় ঘোষণার পাঁচ মাস পর রোববার দুপুরে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করলে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।
]]>




