১৯৯০ বিশ্বকাপ: ইতিহাসের সবচেয়ে দরিদ্র বিশ্বকাপ
<![CDATA[
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে কম গোল হয়েছে ১৯৯০ বিশ্বকাপে। এ জন্য এই আসরকে গোলের দিক দিয়ে সবচেয়ে দরিদ্র বিশ্বকাপ বলা হয়। ফুটবলারদের রক্ষণাত্মক খেলা আর হার্ড ট্যাকলের জন্য রেফারিদের দিতে হয়েছিল ১৬টি লাল কার্ড। ফাইনালে প্রথমবারের মতো লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন দুই আর্জেন্টাইন ফুটবলার।
১৯৩০ সাল থেকে ১৯৯০, এই ৬০ বছরে আয়োজিত হয় ফিফা বিশ্বকাপের ১৩টি আসর। এরপর ১৯৯০ সালের জুনে ইতালিতে বসে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের ১৪তম আসর। মেক্সিকোর পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে সেবার দুটি বিশ্বকাপ আয়োজন করার কৃতিত্ব অর্জন করে ইতালিয়ানরা।
ফিফা বিশ্বকাপ ১৯৯০ এর বাছাই পর্বে ১১৬টি দেশ অংশ নেয়। যার মধ্য থেকে মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ২২টি দেশ। সঙ্গে ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও স্বাগতিক ইতালি। তবে সে সব ছাপিয়ে ১৯৯০ বিশ্বকাপ ইতিহাসে আলাদাভাবে জায়গা করে নেয় বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দরিদ্র বিশ্বকাপ হিসেবে।
আরও পড়ুন:লুইস সুয়ারেজের কামড়-কাণ্ড
কারণ বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে কম গোলের রেকর্ড ১৯৯০ বিশ্বকাপেই। ৫২ ম্যাচে এই বিশ্বকাপে গোল হয়েছিল মাত্র ১১৫টি। ম্যাচ প্রতি গড় মাত্র ২ দশমিক ২১।
অংশগ্রহণকারী দলগুলোর রক্ষণাত্মক খেলা আর হার্ড ট্যাকেল সামাল দিতে রেফারিদের হিমশিম খেতে হয়। ম্যাচের শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে সেই আসরে ১৬টি লাল কার্ড ব্যবহার করে রেফারিরা। দলগুলো এতটাই রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলত, অনেক ম্যাচেই নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও ম্যাচের ফয়সালা হতো না। অধিকাংশ ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ফাইনাল পর্যন্ত সবগুলো ম্যাচের ফলাফল এসেছে টাইব্রেকারেই।
আরও পড়ুন:বিশ্বকাপে না থেকেও জড়িয়ে আছে বায়ার্ন মিউনিখের নাম
সেমিফাইনালের দুটি ম্যাচ আর্জেন্টিনা-ইতালি ও জার্মানি-ইংল্যান্ড ১-১ গোলের ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে জয় পেয়েই ফাইনালে পা রাখে পশ্চিম জার্মানি ও আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনা বনাম পশ্চিম জার্মানির ফাইনাল ম্যাচেও দুটি লাল কার্ড দেন রেফারি। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন দুই আর্জেন্টাইন ফুটবলার পেদ্রো এবং গুস্তাভো। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ফাইনালে লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়ার ঘটনা ছিল সেটিই প্রথম।
শেষ পর্যন্ত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে জার্মানরা।
]]>




