বাংলাদেশ

২৮ দিনেও অনিষ্পন্ন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ ভূমি মন্ত্রণালয়ের

<![CDATA[

ই-নামজারির গড় নিষ্পত্তির সময় নিয়মিত মনিটরিংসহ ২৮ দিন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়েও যেসব মামলা অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভূমিসেবা প্ল্যাটফর্মে (www.land.gov.bd) ই-নামজারি সংশ্লিষ্ট অবমুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ই-নামজারির গড় নিষ্পত্তির সময় নিয়মিত মনিটরিংসহ ২৮ দিনেও অনিষ্পন্ন ই-নামজারি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে আগের সিস্টেমের কারণে যেসব আবেদন ‘মিথ্যা-নেতিবাচক’ অনিষ্পন্ন অথবা পেন্ডিং দেখাচ্ছে, সেসব সমাধান করার উপায়ও জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে চিঠিতে সামগ্রিকভাবে ই-নামজারি নিষ্পত্তিতে নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত মাত্রার সময় ব্যয় হওয়ার অন্যান্য সব কারণও জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ে ই-নামাজারি আবেদন নিষ্পত্তিতে ২৮ দিনের বেশি সময় ব্যয় হওয়ার কারণগুলোর ব্যাপারে অবগত হওয়ার পর সে অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, প্রশ্নভিত্তিক গাইডেড ই-নামজারি ফরম, সরকারের সার্ভারে রক্ষিত ডেটার সঙ্গে সিনক্রোনাইজিংসহ বেশ কিছু নতুন ফিচার সংযুক্ত করে আগের ই-নামজারি সিস্টেম আপডেট করে স্মার্ট করা হয়েছে। ভূমি প্রশাসনে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ভূমিসেবা অধিকতর গণমুখী করার জন্য ভূমিসেবা সম্পর্কিত প্রযোজ্য তথ্যও এই স্মার্ট সিস্টেমে উন্মুক্ত করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে ভূমিসচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংশ্লিষ্ট এক সভায় ই-নামজারি বিষয়ে পর্যালোচনার সময় অবমুক্ত তথ্য প্রদর্শনে প্রযোজ্য সময় থেকে ই-নামজারি আবেদন নিষ্পত্তিতে ২৮ দিনের অধিক সময় মাত্রাতিরিক্তভাবে প্রয়োজন হওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আলোচ্য চিঠিটি ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২৮ দিনের বেশি সময় ব্যয় হওয়ার সম্ভাব্য বিভিন্ন কারণের মধ্যে এমন দুটি ‘মিথ্যা-নেতিবাচক’ কারণও আছে, যা পুরোনো সিস্টেমে কিছু অবস্থা নিছক আমলে (এড্রেস) না নেয়ার কারণে হয়েছে।

আরও পড়ুন: অক্টোবর থেকে ই-নামজারি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ক্যাশলেস: ভূমি সচিব

প্রসঙ্গত, ‘মিথ্যা-নেতিবাচক’ সংশ্লিষ্ট কারণের একটি হচ্ছে, বাধ্যতামূলক শতভাগ অনলাইনে ই-নামজারি ঘোষণার আগে অনেক ভূমি অফিসে অনলাইনে আবেদন করা নামজারির কেস বিভিন্ন কারণে ম্যানুয়ালি নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। নামজারির আবেদন ম্যানুয়ালি নিষ্পত্তি করা হলেও সিস্টেমে আবেদনটি যে অবস্থায় ছিল, সে অবস্থায় রয়ে যায়। অর্থাৎ, এ কারণে ম্যানুয়ালি নিষ্পন্ন করা আবেদন অনলাইনে অনিষ্পন্ন দেখাচ্ছে।

আরেকটি সম্ভাব্য কারণ নির্ণয় করা হয়েছে যে, ই-নামাজারি আবেদন নিষ্পত্তি হয়ে চূড়ান্ত খতিয়ান প্রস্তুত থাকার পরও অনেক জমির মালিক ডিসিআর ফি পরিশোধ করে ডিসিআর এবং খতিয়ান তুলছেন না। এ জন্য সিস্টেমে পুরোনো নামজারি অনিষ্পন্ন দেখাচ্ছে। অর্থাৎ, ৩১ ডিসেম্বর ২০২১-এর আগের নামজারি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আবেদনের কারণে বর্তমান সিস্টেমেও তথ্য প্রর্শনের সময় ফলস-নেগেটিভ দেখাচ্ছে। উল্লেখ্য আপডেট করা স্মার্ট সিস্টেমে এই দুটি অবস্থা (scenario) অ্যাড্রেস করে অ্যালগরিদম আপডেট করা হয়েছে।

জনগণকে দ্রুত সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের বর্তমান বিধান অনুযায়ী সাধারণ ও এলটি নোটিশ বুনিয়াদে ২৮ কার্যদিবস, সনদ প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ১০ কার্যদিবস, প্রবাসীদের জন্য মহানগর এলাকায় ১২ কার্যদিবস ও অন্যান্য এলাকায় ৯ কার্যদিবস এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ/রফতানিমুখী/বৈদেশিক বিনিয়োগপুষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ৭ কার্যদিবসের মধ্যে নামজারি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়ে থাকে।

নিষ্কণ্টক ভূমি ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য জমির মালিকের নামজারি অনুমোদনের পরেই ডিসিআর ও খতিয়ান সংগ্রহ করে নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা উচিত।

নামজারি আবেদন দাখিল, তদন্ত ও শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় সময় আবশ্যক। সঠিক তথ্য প্রদান এবং শুনানিতে প্রমাণক উপস্থাপন করলে ভূমি নামজারি কাজে সময় সাশ্রয় হয়ে থাকে। ভূমি মন্ত্রণালয় চেষ্টা করে মাঠ পর্যায়ের দফতরের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নামজারি সেবা প্রদান করতে।

অন্যদিকে, একটি ভূমি অফিসে আবেদিত নামজারি ছাড়াও আরও অনেক ধরনের ভূমিবিষয়ক কাজ থাকে। নির্ধারিত দিনের চেয়ে কম সময়ে দ্রুত নামজারি নিষ্পত্তির তথ্য প্রদানের কারণেও সামগ্রিক কার্যক্রমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

‘নাগরিক ভূমিসেবা ২৪/৭’-এর হেল্পলাইন ১৬১২২-এ কল করে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম www.facebook.com/land.gov.bd-এ কমেন্ট কিংবা মেসেজ (বার্তা) করে ই-নামজারি সংশ্লিষ্ট তথ্য জানা যাবে এবং অভিযোগ জানানো যাবে। নামজারি আবেদনের অবস্থা www.land.gov.bd অনলাইন সিস্টেম থেকেই সহজে ট্র্যাক করা যায়।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!