ধনীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করতেন তারা
<![CDATA[
প্রথমে ধনী ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহের পর প্রথমে বন্ধুত্ব, অতঃপর প্রেম। এরপর সময় সুযোগ বুঝে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে কৌশলে অশ্লীল-আপত্তিকর ছবি, অডিও ও ভিডিও রেকর্ড। তারপর সেসব ছবি ও ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর ২০২২) ঢাকার সাভার এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।
গ্রেফতাররা হলেন- মো. খোকন আকন্দ ও বিলকিস। এ সময় তাদের কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইলিংয়ে ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন, চেক বইয়ের পাতা ও স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চক্রটির প্রধান খোকন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে বিত্তবানদের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করতেন। পরবর্তীতে বিলকিস বিভিন্ন পরিচয়ে ঐ ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে কল করে বন্ধুত্ব বা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। এরপর প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে করে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হতেন তিনি। এ সময় খোকন সাংবাদিক বা পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের ছবি বা ভিডিও করতেন এবং পরবর্তী সময়ে সেসব পরিবারের কাছে পাঠানো বা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতেন।
আরও পড়ুন : ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণের পর হত্যা করা হয় সুমনকে
অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. নাজমুল হক জানান, কখনো কখনো ভিকটিম তাদের কাজে ইচ্ছা প্রকাশ না করলেও জোরপূর্বক এসব কাজ করতে বাধ্য করা হতো। এই চক্রের প্রতারণার শিকার এক ব্যক্তি গত ২৬ অক্টোবর দারুসসালাম থানায় একটি মামলা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তে নামে অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে সাভার থানা এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ধরনের অপরাধের ফাঁদ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে অনলাইনে পরিচিত ব্যক্তি ছাড়া বন্ধুত্বের অনুরোধ গ্রহণ না করা; অল্পদিনের সম্পর্কে কারও প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে একান্তে মিলিত না হওয়া; যাচাই বাছাই ছাড়া কারও সাথে সম্পর্কে না জড়ানো; অপরিচিত বা অল্প পরিচিত কারো কথায় কোনো অজ্ঞাত স্থানে না যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন সাইবার পুলিশের এ কর্মকর্তা।
]]>




