বিনোদন

এডিস মশা বিমানে করে বাংলাদেশে এসেছে

<![CDATA[

দেশে এক সময় এডিস মশা ছিল না উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, এই মশা বিমানে করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

রোববার (৩০ অক্টোবর) সচিবালয়ে সারা দেশে মশাবাহিত রোগ-প্রতিরোধ ২০২২ সালের পঞ্চম আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ কথা বলেন তিনি। সভায় বিভিন্ন অংশীজন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র।

তাজুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাস যেমন বিদেশ থেকে এসেছে, ডেঙ্গু তেমনি বাহনে চড়ে বাংলাদেশ চলে আসে।

তিনি বলেন, আমরা তুলনাটা (আক্রান্ত এবং মৃত্যু) কেন দেই? কারণ আমাদের এখানে তো এডিশ মশা ছিল না, ডেঙ্গু রোগ ছিল না। এটাতো বাইরে থেকে আসছে। ফ্লাইটে করে প্যাসেঞ্জার আসছিল অথবা দুটি মশা আসছে। দুটি মশা এখানে এসে কোনো না কোনো বাহিত (ডেঙ্গু) ছিল, সে আরও মশা প্রজনন করেছে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অস্বস্তিতে সরকার: তাজুল ইসলাম

এখন যে ডেঙ্গু হচ্ছে এটা নির্মূল করার পথ কী আপনাদের কাছে নেই-এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বলেইতো অবস্থাটা অন্য দেশের তুলনায় এরকম (ভালো)। তাদের দেশেওতো ছিল না। এটা ইউরোপে ছিল। ফ্রান্সে দেখা গেছে যে একদিনে ৭/৮ হাজার লোক মারা গেছে। এ রকম তথ্য আছে আমাদের কাছে।

তিনি আরও বলেন, এটা আমি বলছি যে, হয়তো কোনো কারণে অর্থাৎ কোনো কোনো কারণে আসতে পারে। যেমন আমাদের হয়তো কোনো প্যাসেঞ্জার আসছে হয়তো কোভিডযুক্ত তাকে আইডেন্টিফাই করা যায়নি অথবা কেউ জানে না সে এসে নিজে সুস্থ ছিল কিন্তু রোগী সৃষ্টি করেছে, তেমনিভাবে ফ্লাইটে করে একটি মশা আসতে পারে।

ক্রমেই যেন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে সেপ্টেম্বরে কমতে শুরু করে এডিসের প্রাদুর্ভাব এবং অক্টোবরে নামতে থাকে ডেঙ্গুর পারদ রেখা সেখানে এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো।

প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোতেও দেখা দিতে শুরু করেছে শয্যা সংকট।

আরও পড়ুন: সহস্রাধিক ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে, মৃত্যু ২

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম পাচ মাস অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৫২ জন। জুলাইয়ে অতিক্রম করে দেড় হাজারের ঘর এবং আগস্টে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় সাড়ে তিন হাজার।

এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজারের কাছাকাছি থাকলেও অক্টোবরে তা ধারণ করে প্রকট আকার। চলতি মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২১ হাজার।

এদিকে রোববার (৩০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম ইনচার্জ ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬ জনে। অন্যদিকে নতুন করে আরও ১ হাজার ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নতুন আক্রান্তসহ বর্তমানে সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৬৩০ জন।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!