প্রবাসী আয় কমছে কেন?
<![CDATA[
দেশে একদিকে যখন ডলারের তীব্র সঙ্কট ঠিক তখনই মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দিন দিন কমে আসছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। হুমকির মুখে পড়ছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের স্থিতি। মূলত ডলারের দর নিয়ে অস্পষ্টতা এবং হুন্ডির অপতৎপরতা বৃদ্ধির কারণেই সৃষ্টি হয়েছে এ পরিস্থিতির।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরব সহ বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের উৎস বেশির ভাগ দেশ থেকেই রেমিট্যান্স আসা কমেছে।
গত জুনে শেষ হওয়া অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে প্রবাসী আয় কমেছে আগের বছরের থেকে ২১ শতাংশ। একই অবস্থা সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ওমান সহ অন্যান্য দেশের। গত অর্থবছরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা প্রবাসী আয় কমেছে ১৫ শতাংশ। ওমান থেকে কমেছে ৪১ শতাংশ এবং কুয়েত থেকে কমেছে ১০ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্স কমেছে ৩৮ শতাংশেরও বেশি।
জুলাইয়ে শুরু হওয়া চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ আরও বেশি নিম্নমুখী। সেপ্টেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স এসেছে মাত্র ১৭ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। অথচ আগস্টেও সেখান থেকে ৩০ কোটি ডলার এসেছিল।
প্রবাসী আয় দিন দিন কমলেও থেমে নেই বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিদেশ যাত্রা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিয়েছেন ৮ লাখ ৭৪ হাজার শ্রমিক। ২০২১ সালেও শ্রমিক হিসেবে বিদেশে গিয়েছিলেন ৬ লাখ ১৭ হাজার ২০৯ বাংলাদেশি।
চলতি বছর বিদেশে কাজের জন্য যাওয়া বেশিরভাগ প্রবাসীরই গন্তব্য ছিল সৌদি আরব।
আরও পড়ুন: টুইটার অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করতে গুনতে হবে ২০ ডলার!
সৌদি আরব ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, কুয়েত, সিঙ্গাপুরেও গিয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যেখানে প্রবাসীদের বিদেশযাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়ার কথা সেখানে উল্টো দিন দিন কমে আসছে রেমিট্যান্স।
এ ব্যাপারে প্রবাসীরা ও দেশে থাকা তাদের আত্মীয়-স্বজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রবাসীরা ঠিকই দেশে থাকা স্বজনদের কাছে অর্থ পাঠাচ্ছেন। তবে ব্যাংকিং চ্যানেলে না পাঠিয়ে তারা পাঠাচ্ছেন হুন্ডিতে। এর জন্য তারা দুষছেন দেশের অস্থির হওয়া ডলারের দরকে। ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দর কম পাওয়ার অভিযোগ তাদের। একই পরিমাণ টাকা হুন্ডিতে পাঠালে বেশি দর পাচ্ছেন বলে জানাচ্ছেন তারা।
দেশে ডলারের বিনিময় হার নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। ব্যাংকগুলোতে রফতানি আয়ের ক্ষেত্রে ডলারের সর্বোচ্চ দর ৯৯ টাকা ৫০ পয়সা। আবার এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোতে রেমিট্যান্সের দর ১০৭ টাকা। এছাড়া খুচরা বাজারে ডলারের দর ১১৫ টাকারও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি করছে ৯৭ টাকায়।
পরিস্থিতি উত্তরণে ডলারের দর নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের তরফে সঠিক পদক্ষেপের পাশাপাশি হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারি সংস্থাগুলো উপযুক্ত পদক্ষেপ না নিলে রেমিট্যান্সের এই নিম্নমুখী প্রবাহ অব্যাহত থাকবেই বলে মনে করা হচ্ছে।
]]>




