খেলা

খাদ্যশস্য চুক্তি নিয়ে সুখবর দিলেন এরদোগান

<![CDATA[

ইউক্রেনের সঙ্গে করা খাদ্যশস্য চুক্তিতে ফিরবে রাশিয়া। এমনটাই জানিয়েছে চুক্তির মধ্যস্থতাকারী তুরস্ক। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, কিছু শর্তসাপেক্ষে চুক্তিটি নবায়নে সম্মত হয়েছে মস্কো। প্রধান শর্ত, ইউক্রেনকে আফ্রিকার দেশগুলোতে খাদ্য রফতানিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

গত সপ্তাহে কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার ব্ল্যাক সি ফ্লিটে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর খাদ্যশস্য চুক্তি বাতিল করে মস্কো। বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘ ও ইউক্রেন উদ্বেগ প্রকাশ করে। তবে মস্কোকে চুক্তিতে ফেরাতে আবারও কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ শুরু করে তুরস্ক।

বুধবার (২ নভেম্বর) তুর্কি প্রেসিডেন্ট জানান, রাশিয়া চুক্তিতে ফিরতে রাজি হয়েছে। তিনি বলেন, রুশ প্রতিরক্ষমন্ত্রী সের্গেই শোইগু তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকারকে ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘খাদ্যশস্য রফতানি চুক্তি আগের মতোই চলবে।’ এরদোগান বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ইউক্রেনের খাদ্য রফতানির ক্ষেত্রে সোমালিয়া, জিবুতি ও সুদানের মতো আফ্রিকার গরিব দেশগুলো অগ্রাধিকার পাবে।

আরও পড়ুন: ইউক্রেনের খাদ্যশস্য কোথায় যাচ্ছে, জানালেন পুতিন-এরদোগান

জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় গত জুলাই মাসে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে খাদ্যশস্য চুক্তি সই হয়। তথাকথিত কৃষ্ণসাগর চুক্তির আওতায় ইউক্রেন থেকে কৃষ্ণসাগর দিয়ে ৯০ লাখ টনেরও বেশি খাদ্যশস্য রফতানির অনুমতি দেয়া হয়।

বৈশ্বিক খাদ্যসংকটের চাপ সামাল দিতে ওই খাদ্যশস্য রফতানির চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছিল রাশিয়া। কিন্তু এতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর খুব একটা লাভ হয়নি। মস্কোর অভিযোগ, ইউক্রেন থেকে রফতানি হওয়া খাদ্যশস্যের বেশিরভাগই যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে।

চুক্তিটির মেয়াদ ১২০ দিন। চলতি মাসেই সেই মেয়াদ শেষ হবে। কোনো পক্ষ যদি আপত্তি না করে তাহলে আগামী ১৯ নভেম্বর চুক্তিটি নবায়নের নতুন মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে। তবে এ ব্যাপারে মস্কো বেশ কিছু আপত্তি জানিয়ে আসছে। ফলে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। 

এদিকে বিদ্যমান যুদ্ধাবস্থা নিয়ে মঙ্গলবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন জেলেনস্কি। ওই ফোনালাপের পর ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, তুরস্ক ও জাতিসংঘের প্রচেষ্টার ফলে কৃষ্ণসাগর উপকূলের বন্দর থেকে তার দেশের শস্য পরিবহন অব্যাহত রয়েছে। এ সমর্থন দেয়ার জন্য তারা ধন্যবাদ পাওয়ার দাবিদার, যদিও রাশিয়া চুক্তিটি স্থগিত করে রেখেছে।

আরও পড়ুন: পানির জন্য হাহাকার / ইউক্রেনে একযোগে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

তিনি বলেন, খাদ্যশস্য করিডোরের নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা প্রয়োজন। রাশিয়া যদি এই করিডোর বন্ধ করে দেয়, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত হবে এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানানো।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়ার জানা উচিত যে, আমাদের খাদ্য রফতানি ব্যাহত করে এমন যে কোনো পদক্ষেপের জন্য তার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া পাবে। এটি আক্ষরিক অর্থেই কোটি কোটি মানুষের বাঁচা-মরার বিষয়। ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলাপকালে কিয়েভকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়েও কথা বলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!