‘জলবায়ুর কর্মকৌশল প্রণয়নে তরুণদের প্রধান ভূমিকা রয়েছে'
<![CDATA[
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে এক ভয়াবহ বাস্তবতা; বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য। কিন্তু এই প্রতিকূলতা আমাদের উদ্ভাবনী টেকসই সমাধানগুলো অন্বেষণ করার জন্য এক বিশেষ দ্বার উন্মোচন করেছে। তাই এগিয়ে যাওয়ার সর্বোত্তম উপায় হলো জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এ দেশের তরুণদের যথাযথ নেতৃত্ব দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা। জলবায়ু ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে জলবায়ু সংকটের সমাধান খুঁজে বের করা বা এ গ্রহকে রক্ষায় এমনভাবে কাজ করা যেন প্রক্রিয়াটি ন্যায্য, ন্যায়সঙ্গত এবং বিশ্বের প্রত্যেক তরুণকে এগিয়ে আসা।সবার জন্য অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য, গোটা তরুণ সমাজের নেতৃত্বে উপযুক্ত জলবায়ু কর্মকৌশল প্রণয়নে বাংলাদেশি যুব ও তরুণদের প্রধান ভূমিকা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ঢাকা ক্লাইমেট টক ২০২২’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আমরা বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছি। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের পাশাপাশি অপ্রত্যাশিতভাবে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বেড়েই চলছে। এ সমস্যার সমাধান সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এসব দুর্যোগ দেশের দরিদ্রদের বেশিরভাগ প্রভাবিত করছে। এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে আমাদের কৃষি খাতে।
দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তবে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে উল্লেখযোগ্য সৃজনশীল সমাধান রয়েছে। বিশেষ করে ভৌগলিক অবস্থান, ভাষা এবং তার এলাকায় বিদ্যমান জলবায়ু ঝুঁকির প্রকৃতি বিবেচনা করে তরুণরা প্রতিটি সম্প্রদায়ের জন্য একটি উপযুক্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাস ব্যবস্থা উদ্ভাবন করতে পারে। এ ছাড়াও টেকসই প্রকৃতি-ভিত্তিক জলবায়ু সংকটের সমাধানের জন্য ‘সবুজ উদ্যোক্তা’ হিসেবে বাংলাদেশের পরিবেশ ও জনগোষ্ঠীর জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিতে পারে।
ত্রাণপ্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। প্রয়োজন অনুসারে এমন সিস্টেম নিয়ে আসা যেতে পারে যা আবহাওয়ার আরও ভালো পূর্বাভাস দিতে পারে এবং এই তথ্যগুলোকে অ্যাক্সেসযোগ্য করে তুলতে পারে। আমি নিশ্চিত যে তরুণরা এই সমস্যাগুলো মোকাবেলায় ডিজিটাল পদ্ধতি এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে। এভাবেই আমরা দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন চালিয়ে যেতে পারব বলে আশা করি।
তিনি বলেন,আরেকটি বড় সমস্যা হলো দরিদ্র জনগোষ্ঠী। দুর্যোগ তাদের জীবনকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রকৃতি-বান্ধব ব্যবসা এবং জীবনধারার জন্য উদ্যোগ নেয়া গুরুত্বপূর্ণ, যাতে ঝুঁকি মোকাবিলায় জনগণ নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে। অভিযোজনের জন্য প্রাথমিক প্রয়োজন হলো সঠিক লোকায়িত জ্ঞান ও বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়নে আমাদের তরুণদের নেতৃত্বাধীন ভূমিকা থাকা। আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তরুণরাই প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে।
]]>




