বাঁধে ধস, ঠিকাদারের পক্ষেই সাফাই সড়ক বিভাগের
<![CDATA[
মাদারীপুরে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের পাশে টেকসই বাঁধ নির্মাণের বছর না ঘুরতেই ধস নেমেছে। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। প্রাকৃতিক দুর্যোগের অজুহাত দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে সড়ক বিভাগ।
জানা যায়, ২০১৯ সালের জুলাইয়ে মাদারীপুরের ইটেরপুল থেকে ডাসার পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারকাজ শুরু হয়। একই সময় সড়কটি টেকসই করতে সড়কের খালের পাশে ব্লক ও ইট-বালু-সিমেন্টের মিশ্রণে সাড়ে ৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ শেষ হয় চলতি বছরের জুনে।
এলাকাবাসী জানান, বরিশালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম ডি মাহফুজ খান লিমিটেড রাতের আঁধারে সড়কের বাঁধ নির্মাণ করে। এ সময় অভিযোগ দেয়া হলেও কর্ণপাত করেনি কেউ। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় সামান্য বৃষ্টিতেই বাঁধে ধস নেমেছে। বালু সরে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় হাঁটাচলায় বিড়ম্বনায় পড়েন পথচারীরা। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন: রাতের আঁধারে ফসলি জমি নষ্ট করে বাঁধ নির্মাণ
মন্টারপুল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বছর না ঘুরতেই সড়কের পাশের বাঁধ ধসের ঘটনায় সবার মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এটি নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
শহিদুল মৃধা নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, রাতের আঁধারে বাঁধ নির্মাণ করার সময় বাধা দিলেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। একটু বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থান ধসে পড়েছে। এতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ২৩ বছরেও সংস্কার হয়নি খুলনার শহর রক্ষা বাঁধ
ঠিকাদার মাহফুজ খান বলেন, ‘এটা আমরা ঠিক করে দেব। বৃষ্টির কারণে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের কাজের কোনো ত্রুটি ছিল না।’
মাদারীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ইটেরপুল-পাথুরিয়ারপাড়-ঘোষেরহাট-ডাসার সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ছোট-বড় কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। এই সড়ক সংস্কার ও বাঁধ নির্মাণে খরচ করা হয়েছে ৪১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় মেরামত করে দিতে বলা হয়েছে। মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগেই এমনটা হয়েছে। এখানে ঠিকাদারের কোনো দোষ নেই।
]]>




