বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ নিয়ে উত্তাপ কমছেই না
<![CDATA[
বাংলাদেশ-ভারত মাঠের লড়াই শেষ হয়ে গেলেও উত্তাপ যেন কমছেই না। ম্যাচ শেষ হলেও চলছে কথার ঝাঁঝ। এ তালিকায় যোগ দিয়েছেন পাকিস্তান ও ভারতের সাবেকরাও।
সাম্প্রতিক সময়ে বাইশগজের লড়াইয়ে পাক-ভারত দ্বৈরথের পর আরেকটা মহারণের তকমা পেয়েছে প্রতিবেশি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ম্যাচ। গত ২ নভেম্বর অ্যাডিলেড ওভালে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫ রানে হারিয়েছে ভারত। তবে ম্যাচটি ঘিরে জন্ম দিয়েছে নানা বিতর্ক। মাঠে বিরাট কোহলির ভূমিকা। আম্পায়ারদের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সব কিছুই গেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে।
বিরাট কোহলির ফেক ফিল্ডিং কাণ্ড নিয়েই আলোচনাটা হচ্ছে বেশি। আইসিসির নিয়ম অনুসারে ফেক ফিল্ডিংয়ের কারণে পেনাল্টি পাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। আর সেটি হলে জয় নিয়েই ফিরতে পারতো লাল-সবুজের দল। ঘটনাটি ঘটার পর বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা তৎক্ষণাৎ অভিযোগ জানালেও ব্যবস্থা নেননি আম্পায়াররা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ টাইগার সমর্থকরা। ষড়যন্ত্র তত্ত্ব খুঁজছেন সাবেকরাও। খোদ ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়া এবং পাকিস্তানি কিংবদন্তি অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
কোহলিকাণ্ডে আকাশ চোপড়া বলেন, ‘ওইটা ১০০ শতাংশ ফেক ফিল্ডিং ছিল! কোহলি বল হাতে না নিয়েও থ্রো করার ইঙ্গিত দিয়েছিল। মাঠে থাকা দুই আম্পায়ার এবং তৃতীয় আম্পায়ার যদি ব্যাপারটা দেখতেন, তাহলে নিশ্চিতভাবেই পেনাল্টি হিসেবে ভারতের ৫ রান কাটা যেত। শুধু তাই নয়। ওই ডেলিভারিটাও ‘ডেড বল’ বলে বিবেচিত হত। ফলে দুই রান দৌড়ে নেয়ার জন্য ভারতের বিপক্ষে ৭ রান পেত বাংলাদেশ। এমনকি সেই ডেলিভারি ‘ডেড বল’ হওয়ার জন্য আরও একটি বাড়তি বল খেলার সুযোগ পেত সাকিবরা। কিন্তু তেমন কিছু ঘটেনি। কারণ আম্পায়ারের চোখ থেকে এত বড় ঘটনা এড়িয়ে গেছে। তারা দেখলে বাংলাদেশ কিন্তু জিতে যেত। মনে রাখবেন আমরা কিন্তু ৫ রানে ম্যাচ জিতেছিলাম।’ এ বিষয়ে বাংলাদেশের অভিযোগ সঠিক বলেও মন্তব্য তার।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনালের নিয়মে পরিবর্তন
এদিকে, ফেক ফিল্ডিং ছাড়াও বাংলাদেশকে ভেজা মাঠে খেলতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে পাক সংবাদমাধ্যম সামা টিভিতে শহিদ আফ্রিদি বলেন, টিভির পর্দাতেই দেখা গেছে সাকিব মাঠ ভেজা নিয়ে কথা বলেছে। দেখতেই পারছেন মাঠ ভেজা ছিল। আমি মনে করি, আইসিসি কিছুটা ভারতের দিকে ঝুঁকেছে। যে কোনো মূল্যে ভারতকে সেমিফাইনালে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে চায় তারা।
শহিদ আফ্রিদির বিস্ফোরক মন্তব্যের পর মুখ খুলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও। বিসিসিআই প্রধান রজার বিনি বলেন, এভাবে বলা ঠিক হয়নি। আইসিসি আমাদের পক্ষ নেয় বলে মনে করি না। সবাইকে সমান চোখেই দেখা হয়। তাই ওই অভিযোগের কোনো জায়গাই নেই। অন্য দলগুলোর চেয়ে আমরা বেশি কী পেয়ে থাকি? ভারত ক্রিকেটের বড় শক্তি হতে পারে, কিন্তু সবাইকে সমান চোখেই দেখা হয়।’
অ্যাডিলেডের ম্যাচটি নিয়ে বিতর্ক ছড়ালেও কোনো অজুহাত দাঁড় করাতে চান না বাংলাদেশের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর শ্রীধরণ শ্রীরাম। ভারতের বিপক্ষে কম ব্যবধানে হারের পর ছেলেদের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে বলেই মন্তব্য তার।
]]>




