বরগুনায় বিশুদ্ধ পানির সংকট
<![CDATA[
পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বরগুনা পৌর শহরের অন্তত দুই শতাধিক টিউবওয়েল থেকে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে।
এতে শহরজুড়ে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, খাকদোন নদীর পানি পরিশোধন করে বরগুনা পৌরসভার বাসিন্দাদের ব্যবহারের জন্য ১৯৯৮ সালে শহরের ক্রোক এলাকায় একটি পানি শোধনাগার নির্মাণ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। কিন্তু তখন গ্রাহক কম থাকায় ব্যয় উঠত না, তাই ২০১২ সালে শোধনাগারটি বন্ধ করে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায় বরগুনা পৌরসভা। এতেই বাধে বিপত্তি!
পানির চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ৮০ লাখ লিটার ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে পৌরসভা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ভূগর্ভস্থ পানি পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করায় পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। ফলে বরগুনা পৌরসভার প্রায় সব টিউবওয়েল থেকে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন সুপেয় পানির সংকটে দিশেহারা বরগুনা পৌরবাসী।
বরগুনা পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ‘পৌর শহরের তিন চার বাড়ি পর একটি করে টিউবওয়েল আছে। এসব টিউবওয়েল দিয়েই খাওয়ার জন্য সুপেয় পানির প্রয়োজন মেটাতাম। এখন একটি টিউবওয়েল থেকেও পানি ওঠে না। এতে ভয়াবহ পানি সংকট তৈরি হয়েছে।’
আরও পড়ুন: সিলেটে জলাশয় ভরাট, পানি সংকটে ফায়ার সার্ভিস
পৌরসভার ডিকেপি রোডের বাসিন্দা নার্গিস আক্তার বলেন, ‘কোনো টিউবওয়েল দিয়ে পানি না ওঠায় পৌরসভার বাইরে থেকে পানি আনতে হয়। প্রতি কলস পানি আনতে ২০ টাকা করে দিতে হয়। টাকা দিয়েও অনেক সময় পানি পাওয়া যায় না।’
মহিউদ্দিন মকবুল নামের আরেকজন বাসিন্দা বলেন, ‘বাসার সামনে একটি টিউবওয়েল ছিল। এলাকাবাসী দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে পানি নিয়েছি। কিন্তু এখন পানি ওঠে না।’
এ বিষয়ে বরগুনা পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, ‘সুপেয় পানির সংকট দূর করতে দুটি উঁচু জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু পাইপে সমস্যা থাকায় এ দুটি থেকে পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। আমরা এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছি।’
বরগুনার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘পানি পরিশোধনাগারটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। এটি চালু করা হলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। সুপেয় পানির সংকটও দূর হবে।’
]]>




