খুলনার আদালতে মামলাজট, বছরের পর বছর অপেক্ষা
<![CDATA[
করোনাকালে ভার্চুয়ালি পরিচালনা, বিচারক ও জনবল সংকট, সাক্ষীদের অনাগ্রহসহ নানা কারণে খুলনার বিভিন্ন আদালতে ৮০ হাজারের বেশি মামলার জট তৈরি হয়েছে।
খুলনার মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে বিচারপ্রার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। বিভিন্ন আদালতে বিচারপ্রার্থীদের এই ভিড় নিয়মিত চোখে পড়ে। বছরের পর বছর নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আদালত প্রাঙ্গণে ঘুরে ঘুরে সময় কাটছে বিচারপ্রার্থীদের।
এদিকে অপ্রয়োজনীয় মামলা, সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত নিশ্চিত করাসহ অন্য বিচারিক কার্যক্রমে গতিশীলতার দাবি সংশ্লিষ্টদের।
খুলনার সরকারি কৌঁসুলিদের তথ্য থেকে জানা যায়, জেলা দায়রা আদালত, মহানগর দায়রা আদালত, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালসহ খুলনার বিভিন্ন আদালতে ৮০ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে জমি সংক্রান্ত মামলা রয়েছে সবচেয়ে বেশি (১৪ হাজার)। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তিনটি আদালতে রয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি মামলা। কোনো কোনো মামলার নিষ্পত্তি হয়নি যুগেরও বেশি সময় ধরে।
মামলাজটের কারণ হিসেবে বিচারপ্রার্থীদের অসহযোগিতার কথা অস্বীকার করে সাধারণ আইনজীবীরা সংকট দূর করে আইনেও কিছু পরিবর্তনের কথা বলছেন।
আরও পড়ুন: ‘সারা দেশের আদালত থেকে মামলার জট কমাতে চান সুপ্রিম কোর্ট’
তবে আইনজীবীদের মতে, সব পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতাই পারে মামলার জট কমাতে।
সাক্ষীদের অনাগ্রহ, বিচারক সংকটকে মামলাজটের জন্য দায়ী করে সরকারি কৌঁসুলিরা বলছেন, মামলাজট দূর করতে সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কে এম ইকবাল হোসেন বলেন, সাক্ষী যদি ঠিকমতো না আসে, সে ক্ষেত্রে বিচারকাজে বিলম্ব হয়। মামলাজট তৈরি হয়।
খুলনা জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি আইয়ুব আলী শেখ বলেন, আইজীবী, বিচারক ও বিচারপ্রার্থী প্রত্যেকের যদি সদিচ্ছা থাকে, তাহলে মামলার জট খুব একটা থাকার কথা নয়।
মামলাজট কমাতে বিচারকদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের কথা জানান খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে খুলনা আদালতের মামলাগুলো নিষ্পত্তি হবে। জেলার ৫৪টি আদালতে ৫৪ জন বিচারক রয়েছেন খুলনায়।
]]>




