বাজারে নতুন ধান, তবুও বাড়ছে চালের দাম
<![CDATA[
দিনাজপুরে চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠছে। গত ৫ দিনে ৫০ কেজি চালের বস্তার দাম ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কেজিতে বেড়েছে ৩ থেকে ৪ টাকা। এতে দিশাহারা ক্রেতা। পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মিলাররা খেয়াল খুশি মতো দাম বাড়াচ্ছে।
দিনাজপুরের হাটবাজারে নতুন ধান উঠলেও পাল্লা দিয়ে চালের দাম বাড়ছে। দিনাজপুরের বড় পাইকারি মার্কেট বাহাদুর বাজারে গত ৫ দিনের ব্যবধানে ৫০ কেজির বস্তার চালের দাম ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা বেড়েছে। কেজিতে বেড়েছে ৩ থেকে ৪ টাকা। দফায় দফায় দাম বাড়ায় সাধারণ ক্রেতারা দুর্ভোগে পড়েছেন।
এ বাজারে প্রতি কেজি ব্রি-২৯ চালের দাম ৬০ টাকা, ব্রি-২৮ চাল ৬২ টাকা, গুটিস্বর্ণ ৫০ টাকা, সুমন স্বর্ণ ৫৫ টাকা, মিনিকেট ৭২ টাকা, নাজিরশাইল ৮৫ টাকা, বাসমতি ৮৫ টাকা, চিনিগুড়া ১৩০ টাকা।
চালের বাড়তি দামে বিপাকে পড়া এক ক্রেতা বলেন, সব ধরনের চালের বস্তার দামই ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি। আমরা চাল কিনতে যে পরিমাণ টাকা নিয়ে আসি, সে টাকা দিয়ে চাল কিনে ফিরতে পারি না। এক কেজি কিনতে পারি না, তাই অর্ধেক কেজি কিনে কোনো মতো দিনকাল যাচ্ছে আমাদের। এছাড়া আমাদের আর কী করার আছে।
আরেকজন ক্রেতা বলেন, শুধু চাল না, সব ধরনের পণ্যের দামই লাগামহীনভাবে বাড়ছে। আসলে এ মূল্যের লাগাম টেনে ধরা দরকার।
আরও পড়ুন: মন্দার শঙ্কায় অস্থির চালের বাজার
মিলারদের দাম বাড়ানোর কারণে খুচরা বাজারে প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। এক চাল ব্যবসায়ী বলেন, এখন মৌসুম আমাদের গুটি স্বর্ণ, সুমন স্বর্ণ ও কাটারির। কিন্তু ব্রি-২৮ ও মিনিকেটের দাম কেন বাড়ে, আমরা এটির কোনো উদ্দেশ্য খুঁজে পাই না।
আরেকজন চাল ব্যবসায়ী বলেন, মিলাররা আমাদের চাল ঠিকই দিচ্ছেন কিন্তু যখন যেমন চাহিদা তার ওপর ভিত্তি করে দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। মিলাররা ধান কিনছেন ঠিকিই কিন্তু সে তুলনায় পর্যাপ্ত চাল বাজারে ছাড়ছেন না। এতে চালের দাম সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
এদিকে বাজারে আমন ধান পুরোপুরি উঠলে চালের দাম কমবে বলে মনে করেন দিনাজপুর চালকল মিল মালিক গ্রুপের সভাপতি মুসাদ্দেক হুসেন। তিনি বলেন, বাজারে অল্প ধান উঠেছে, তবে দাম অত্যন্ত বেশি। যার জন্য চালের দাম একটু বেশি রয়েছে। তাই আমরা আশা করছি যে আমন মৌসুমে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের পর বাজারে ধান উঠার পর যদি দাম কমে তাহলে অবশ্যই চালের দাম কমবে।
দিনাজপুরে এবার ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৩২ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন ধরা হয়েছে।
]]>




