তীব্র বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের মুখে শি জিনপিংয়ের তৃতীয় মেয়াদ শুরু
<![CDATA[
রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও পরিকল্পনা সমর্থনকারীদের সঙ্গে বেসরকারি ব্যবসা ও বাজারের পক্ষে সাফাইকারীদের তীব্র বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের মাঝেই চীনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের তৃতীয় মেয়াদের শাসন শুরু হয়েছে।
মাও সে তুংয়ের অনুপ্রাণিত জনগণের অর্থনীতিতে (পিপলস ইকোনোমি) ফিরে যাওয়ার উপযুক্ততাকে কেন্দ্র করে দেশটির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদদের মধ্যে প্রকাশ্যে বিতর্ক চলছে। মাও সে তুং যুগের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য—‘গ্রামীণ সমবায়’ সংক্রান্ত রোজকার সাধারণ খবর কিভাবে হঠাৎ করে অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে তার সাক্ষী হয়েছে চীন।
আর এই বিতর্ক চীনে ব্যাপকভাবে এই অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে দিয়েছে যে শির নেতৃত্বে দেশটি কোন দিকে যাচ্ছে। এই বিতর্ক মহামারি এবং দেশটির আবাসন মন্দাভাবে ইতোমধ্যে বিপর্যস্ত অর্থনীতির জন্য সুখকর কিছু না।
সবচেয়ে বড় কথা হলো এই বিতর্ক তথাকথিত নব্য মাওবাদীসহ চীনের বাম—যারা কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পিত অর্থনীতির জন্য স্মৃতিকাতর তাদেরকে ১৯৯২ সাল থেকে বেসরকারি খাতকে সমতর্থন করে আসা ডানপন্থিদের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ১৯৯২ সালে তৎকালীন চীনা সংস্কারবাদী নেতা তেং জিয়াওপিং চীনে সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতি নামে এক অস্পষ্ট ব্যবস্থা চালু করেছিলেন।
গত মাসে শি কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসে তেংয়ের স্লোগান ব্যবহার করেছিলেন। তিনি বেসরকারি কোম্পানিগুলোর গুরুত্বের উপর জোর দেন এবং অর্থনীতিতে বাজারের ভূমিকা বাড়ানোর জন্য সংস্কারের পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে তিনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক স্লোগান ‘কমন প্রোসপারিটি’ (সামাজিক সাম্য) শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। যে স্লোগানটি একটি বামপন্থি স্লোগান হিসেবে দেখা হয়।
আরও পড়ুন : চীনা কর্তৃত্ববাদের ঝুঁকিতে আফ্রিকা
বর্তমানে যে বিতর্ক হচ্ছে তা কংগ্রেসের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে শুরু হয়। মূলত গত শতকের ৬০ দশকের ফুটেজের সঙ্গে যুক্ত করে প্রবীণ কৃষি পণ্ডিত ওয়েন টাইজুনের একটি ভিডিও বক্তব্য— যেখানে তিনি পিপলস ইকোনোমির জন্য আহ্বান জানান তা ছড়াতে থাকলে এই বিতর্ক শুরু হয়।
ওয়েনের প্রস্তাবের কিছু বিষয় যেমন প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা বাড়ানো এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সরবরাহ চেইন— বেইজিংয়ের নীতির সঙ্গে মিলে যায়। কিন্তু জনগণের মালিকানার উপর আরও জোর দেওয়া জন্য তার আহ্বানই বিতর্ক উসকে দেয়।
চীনের নব্য মাওবাদীদের ওপর লেখা একটি বইয়ের লেখক জুড ব্ল্যানচেট বলেছেন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং ‘সামাজিক সাম্য’ বিষয়ে শি জিনপিংয়ের কড়া বক্তব্য ওয়েন টাইজুনের মতো বুদ্ধিজীবীদের কাছে একটি সংকেত পাঠিয়েছে যে, চীনের সমাজতান্ত্রিক ভীত নিয়ে পলিসি ডিসকাশনের সুযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন : আগামী পাঁচ বছরের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ঘটনার অপেক্ষায় চীন
বর্তমানে চীনে বাম ও ডানপন্থিদের মধ্যে চরম বিতর্ক চলছে। গেভেকাল ড্রাগনমিক্সের অ্যান্ড্রু ব্যাটসনের গবেষণা মতে, এই বিতর্কের পুনরুত্থানে শি সম্ভবত বিভ্রান্ত হতে পারেন। তার শাসনের অধীনে জিডিপিতে রাষ্ট্রীয় খাতের অবদান অন্তত মহামারি পর্যন্ত অনেকাংশে স্থির ছিল।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টি গত বছর একটি যুগান্তকারী ‘ঐতিহাসিক রেজুলেশন’ প্রকাশ করে। যেখানে এটা পুনরায় নিশ্চিত করা হয় যে, ‘পিপলস কমিউন’-এর মতো মাওবাদী প্রধান নীতিগুলো ‘ভুল’ ছিল।
ব্ল্যানচেট বলেন, যদিও শির অধিকাংশ বক্তব্যই বামপন্থিদের পছন্দের, কিন্তু ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার পর, একজন সত্যিকারের সমাজতন্ত্রীর চেয়ে তিনি নিজেকে বেশি রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদী প্রমাণ করেছেন।
]]>




