বিনোদন

নাস্তার টেবিলে দেবর-ভাবির ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক

<![CDATA[

জাতীয় পা‌র্টি নি‌য়ে সৃষ্ট সংকট সমাধা‌নে বি‌রোধীদলীয় নেতা ও দল‌টির প্রধান পৃষ্ঠ‌পোষক বেগম রওশন এরশা‌দের স‌ঙ্গে ‌দেখা ক‌রে‌ছেন দল‌টির চেয়ারম‌্যান গোলাম মোহাম্মদ কা‌দের।

মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানী গুলশা‌নের হো‌টেল ও‌য়ে‌স্টি‌নে রওশন এরশা‌দের স‌ঙ্গে দেখা করেন তিনি। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে তারা একসঙ্গে নাস্তাও করেন। ফলে দীর্ঘ‌দি‌নের ভুল বোঝাবু‌ঝির অবসান ঘ‌টি‌য়ে ভাঙনের হাত থে‌কে রক্ষা পে‌তে পা‌রে জাতীয় পা‌র্টি।

জাতীয় পা‌র্টির চেয়ারম‌্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কা‌দেরের সঙ্গে এ সময় দল‌টির কো-চেয়ারম‌্যান সৈয়দ আবু হো‌সেন বাবলা, প্রেসি‌ডিয়াম সদস‌্য ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শ‌ফিকুল ইসলাম সেন্টু উপ‌স্থিত ছি‌লেন।

চাচা‌কে স্বাগত জানান এরশাদপুত্র রাহ‌গির আল মা‌হে সাদ এরশাদ, পুত্রবধূ ম‌হিমা সাদ। বি‌রোধী‌ নেতার স‌ঙ্গে দেখা ক‌রে সালাম ও কুশলা‌দি বি‌নিময় ক‌রেন জিএম কা‌দের। তারপর সবাইকে স‌রি‌য়ে দি‌য়ে ১০-১৫ মি‌নিট একান্তে কথা ব‌লেন তারা। ব‌হিষ্কৃত, দলত‌্যাগীদের ফি‌রি‌য়ে নেয়া, ত‌্যাগী‌নেতা‌দের মূল‌্যায়ন, প্রধান পৃষ্ঠ‌পোষকসহ সবার পরাম‌র্শে জাতীয় পা‌র্টির কার্যক্রম প‌রিচালনা, রংপুর সি‌টি নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচন এবং দলীয় রাজনী‌তির সৃষ্ট সংকট নি‌য়ে দুজনই আলোচনা ক‌রে‌ছেন।

আরও পড়ুন: মোস্তাফাকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা রওশনের

বৈঠক বিষয়ে শফিকুল ইসলাম সেন্টু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমাদের দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের সঙ্গে এক টেবিলে নাস্তা করেছেন। এ সময় তাদের মধ্যে প্রায় ৫৫ মিনিটের বৈঠক হয়। অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। এরপর আশা করা যায়, দলের মধ্যে সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়ে যাবে। দল এখন চাঙ্গা হবে বলেই আমরা মনে করি। এ জন্য দলের চেয়ারম্যান পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন। আমরা দলের নেতাকর্মীরাও চেয়েছিলাম দলের এই ভুল বোঝাবুঝির অবসান হোক।

কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে- এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শীর্ষ দুই নেতা দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ ছাড়া রওশন এরশাদের শারীরিক বিষয়ে জানতে চেয়েছেন জি এম কাদের।

২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠাতা এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির কর্তৃত্ব নিয়ে রওশনের সঙ্গে দেবর কাদেরের দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠেছিল, পরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যস্থতায় সমঝোতা হয় দুজনের।

তারপর কাদের দলের চেয়ারম্যান হন, আর রওশন হন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা। তিন বছর পর থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন রওশন এরশাদের নামে গত ৩০ আগস্ট আকস্মিকভাবে দলের কাউন্সিল ডাকা হয়। এর পাল্টায় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরাও রওশনকে বাদ দিয়ে কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে সেপ্টেম্বরের শুরুতে চিঠি দেন স্পিকারকে।

দলে বিবাদের মধ্যে গত ১৪ সেপ্টেম্বর কোনো কারণ উল্লেখ না করে মসিউর রহমান রাঙ্গাকে দলের সভাপতিমণ্ডলীসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেয় জাতীয় পার্টি।

আরও পড়ুন: বিএনপির সঙ্গে জোট নিয়ে যা বললেন রওশন এরশাদ

প্রায় দুই মাস পার হলেও জিএম কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করার প্রশ্নে স্পিকারের কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় ৩০ অক্টোবর দলটি সংসদ বর্জনের সিদ্ধান্ত জানায়।

বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে গেজেট প্রকাশ না করা পর্যন্ত তারা সংসদে যোগ দেবেন না বললেও অবশ্য পরদিনই সংসদ অধিবেশনে তাদের দেখা যায়।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!