নাটোরে ২ হাজার হেক্টর জমির আবাদ বন্ধ
<![CDATA[
নাটোরের সিংড়ার মরাগাঙ্গিনা খালের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিজ ও পত্তন দেয়ায় পানি প্রবাহ বন্ধ রয়েছে। এরফলে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির স্থায়ী জলাবদ্ধতা দূর করতে সিংড়া উপজেলা পরিষদের রেজুলেশন করে খালটি খননের উদ্যোগ নেয় বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
খালটি খনন করতে গিয়ে লিজ ও পত্তন গৃহিতাদের বাধার মুখে পড়লেও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের।তবে জেলা প্রশাসক দাবি করেছেন দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।
শেরকোল ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, প্রায় ২০ ধরে পানি ও কচুরিপানায় আবাদের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে সিংড়া উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠের ফসলি জমি। বছরের ১০ মাসই এভাবে পানিতে তলিয়ে থাকে জমিগুলো। দুই মাস পানি কম থাকলেও ওই সময়ে আবাদ করতে পারেন না কৃষকরা। এ এলাকার ফসলি জমিতে প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ ধান উৎপাদন হলেও স্থায়ী জলাবদ্ধতায় করানে ফসল উৎপাদন করতে পারছে না কৃষকরা। ৪টি ইউনিয়নের ১২টি বিলের পানি মরাগাঙ্গিনা খাল দিয়ে আত্রাই নদীতে নেমে যেতো। খালটির দেড় কিলোমিটার এলাকায় লিজ ও পত্তন দেয়ায় লিজ গৃহিতারা পানি প্রবাহ বন্ধ করে মাছের চাষ করায় পানি নামতে পারছে না। খালটি চলতি বছরের মে মাসে খননের উদ্যোগ নেয়া হলেও লিজ গৃহিতাদের বাধার কারনে খনন কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
খালটির লিজ গৃহিতা কামরুল ইসলাম জানান, ৫০ বছরের উপর থেকে ১৬ জন খালটির লিজ ও পত্তন নিয়েছেন, তারা সরকারকেও খাজনা দিয়েছেন। কয়েক লাখ টাকার মাছ চাষ করছেন তারা। এরপ্রেক্ষিতে খাল ননন বন্ধ করে দিয়েছেন বলে দাবি তাদের।
নাটোর বরেন্দ্র উন্নয়ন কতৃর্পক্ষের সহকারী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আহসানুল করিম জানান, প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে আড়াই কোটি ব্যায়ে প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটারের এই খালটি খননের উদ্যোগ নেন তারা। সিংড়া উপজেলা প্রশাসনের রেজুলেশন পাশপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে খালটি খননের উদ্যোগ নেয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খালটি খননের সময় বাধা প্রদান করা হলেও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা পাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
নাটোর বরেন্দ্র উন্নয়ন কতৃর্পক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনির বলেন, খালটি খননেন উদ্যোগ নেয়ার পর লিজ ও পত্তন গৃহিতারা আদালতে ৫টি মামলা করেছেন। বরেন্দ্র উন্নয়ন কতৃর্পক্ষের থেকে মামলাগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইমরান জানান, নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন তাই বিষয়টি তিনি অবগত নন।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিরুল ইসলামের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে লিজ দেয়া হয়েছে।
নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, কৃষকদের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে খালটি খনেনর দরপত্র আহবান করা হয়। আর ১২ মে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করে বরেন্দ্র উন্নয়ন কতৃর্পক্ষ।
]]>




