নরসিংদীতে ইউপি চেয়ারম্যান হত্যার ৩ দিনেও হয়নি মামলা
<![CDATA[
দুর্বৃত্তের গুলিতে নরসিংদীর রায়পুরায় মির্জারচর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. জাফর ইকবাল হত্যার ঘটনার তিন দিনেও কোনো মামলা হয়নি।
মঙ্গলবার (০৬ ডিসেম্বর) সকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তবে নিহত চেয়ারম্যানের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেবেন তারা।
নিহত চেয়ারম্যানের স্ত্রী মাহফুজা আক্তার বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে ও আধিপত্য বিস্তারের জন্যই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফিরোজ মিয়ার নির্দেশে তার কর্মী দুলাল আমার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করেছে। গত ছয় থেকে সাত বছর ধরে আমার স্বামীর সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব চলছিল। এই দ্বন্দ্বের জেরেই আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে।
মাহফুজা আক্তার আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আরও কারা কারা জড়িত তাদের নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা করছি আমরা। জড়িত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। আজকালের মধ্যেই লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় যাব আমরা।
আরও পড়ুন: ইউপি চেয়ারম্যান হত্যার এক দিন পরও হয়নি মামলা, আটক ২
এদিকে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান জানান, চেয়ারম্যান মো. জাফর ইকবাল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার পরিবারের কাছ থেকে আমরা এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে; তবে তারা জানিয়েছেন, দ্রুতই থানায় মামলা করতে আসবেন। লিখিত অভিযোগ পেলে সেটি মামলা হিসেবে নেয়া হবে।
এর আগে শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নদীভাঙন রোধ পরিদর্শনে শান্তিপুর এলাকায় যান মানিক। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মো. জাফর ইকবাল (৫০) রায়পুরার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল মির্জারচর ইউনিয়ন পরিষদে পরপর দুবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫ সালে মির্জারচর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মিয়ার ছেলে মো. ফারুকুল ইসলাম। ওই নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. জাফর ইকবাল। এর পরের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান ফিরোজ মিয়া নিজেই। তিনিও জাফর ইকবালের সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে হেরে যান। এরপর থেকে তারা দুজন স্থানীয়ভাবে প্রতিপক্ষ হয়েছেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
]]>




