দিনে চড়ে গরু ছাগল, রাতে মাদকসেবীর আখড়া
<![CDATA[
অরক্ষিত সুনামগঞ্জে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ড। অগ্নিকাণ্ডে ঘটনার দেড় যুগ পেরিয়ে গেলেও নেয়া হয়নি গ্যাস উত্তোলনের কোনো উদ্যোগ। অযত্ন অবহেলায় মরিচা পড়ে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান মেশিন। এ ছাড়া গ্যাসফিল্ডে দিনের বেলায় গরু, ছাগল ও ভেড়া চড়ে আর রাতে মাদকসেবী ও বখাটেদের আখড়া বসে বলে জানান স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাসফিল্ডের চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নানা মেশিনারিজ ও লোহার মূল্যবান পাইপ। গ্যাসকূপের মরিচা পড়ে তিলে তিলে নষ্ট হচ্ছে। ঢেউটিনের বেড়া ভেঙে যাওয়ায় অরক্ষিত রয়েছে গ্যাসফিল্ড। পরিত্যক্ত কূপের আশপাশের পুকুর থেকে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করছেন শতাধিক পরিবার।
২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন দুদফা বিস্ফোরণে রিগ ভেঙে ৫২ বিসিক গ্যাসের রিজার্ভ ধ্বংস হয়। এক মাসেরও বেশি সময় পর সেখানে আগুন নিভে যায়।
দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলা গ্রামের বাসিন্দা মালেক মিয়া জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে গ্যাসফিল্ড পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। পশ্চিম পাশের ঢেউ টিনের বেড়া ভেঙে যাওয়ায় গরু ছাগল ও বাইরের মানুষ অবাধে প্রবেশ করেছে। রাতেও সেখানে বসে মাদকসেবীদের আখড়া।
গিরিশনগর গ্রামের সাইফুল ইসলাম জানান, সরকার যদি এখানে আবার গ্যাস উত্তোলনের কাজ করে তাহলে এলাকাবাসীর পাশাপাশি দেশের গ্যাস সংকট দূর হতে পারে।
আরও পড়ুন: গ্যাসফিল্ডে তেলের ট্যাংকে শ্রমিকের মরদেহ
কাবুল মিয়া বলেন, ঠুনকো ঢেউটিনের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে যাওয়া এটি অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নিলে দেশ উপকৃত হবে।
এলাকার মাহিন মিয়া জানান, মূলকূপের পাশে একটি পুকুর রয়েছে। সেখান থেকে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে অবৈধভাবে বাসাবাড়িতে গ্যাস নিচ্ছে কিছু লোক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তা প্রহরী বলেন, মূল গ্যাস ফিল্ডে কেউ অবাধে প্রবেশ করতে পারে না। পশ্চিম উত্তর দিকের টিনের বেড়া ভেঙে যাওয়ায় রাতের বেলা বাইরের লোকজন প্রবেশ করে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা প্রিয়াংকা জানান, টেংরাটিলা গ্যাস অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বাপেক্স যদি গ্যাসফিল্ড খননের উদ্যোগ নেয় তা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়নে ২০০৩ সালে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে চুক্তি করে বাপেক্স।
]]>




