বিনোদন

ফাইনালের পথে আর্জেন্টিনা

<![CDATA[

সেমিফাইনালের লড়াইয়ে প্রথমার্ধে দলকে লিড এনে দেন লিওনেল মেসি। এরপর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হুলিয়ান আলভারেজ। বিরতির পর মেসির পাস থেকে গোল করে দলকে আরও এগিয়ে নেন আলভারেজ। তাতে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের পথে আলবিলেস্তেরা।

মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) ফাইনালের টিকিট নিশ্চিতের ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোনো পাত্তাই যেন পাচ্ছে না ক্রোয়েশিয়া। দুদলের শেষবারের দেখায় গত রাশিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। সে প্রতিশোধ কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৬৯ মিনিটেই তুলে নেয় মেসিরা।

ম্যাচের শুরু থেকে বল দখলে রেখে আর্জেন্টাইন রক্ষণে চাপ তৈরি করতে থাকে ক্রোয়েশিয়া। তবে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দিদের নৈপুণ্যে ডি-বক্সে ঢোকার সুযোগ পায়নি মদ্রিচরা। ১৬ মিনিটে প্রথম কর্নার তুলে নেয় ক্রোয়াটরা। ১৭ মিনিটে গোলের জন্য প্রথম শট নেয় গত আসরের রানার্সআপরা। তবে তাদের সে শট থাকেনি লক্ষ্যে।

আরও পড়ুন: ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নেমেই যে রেকর্ড গড়লেন মেসি

অন্যদিকে ম্যাচের ১৮ মিনিট পেরিয়েও আক্রমণে বেশ ব্যাকফুটে ছিল আর্জেন্টিনা। ক্রোয়েশিয়ার ৬৫ শতাংশের বিপরীতে মেসিরা তখন পর্যন্ত মাত্র ৩৫ শতাংশ সময় বল দখলে রাখতে পেরেছিল। তবে গোলের জন্য কোনো শটই নিতে পারেনি দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

তবে শেষদিকে তারাই আধিপত্য করে খেলেছে। গোলের উদ্দেশে মেসিদের নেয়া ৫ শটের ৪টিই ছিল লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে ক্রোয়েশিয়ার নেয়া ৪ শটের একটিও থাকেনি লক্ষ্যে।

ম্যাচের ২৫ মিনিটে গোলের উদ্দেশে প্রথম শট নেয় আর্জেন্টিনা। অবশ্য ডি-বক্সের বাইরে থেকে এনজো ফার্নান্দেজের শট সে যাত্রায় ফিরিয়ে দিয়ে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন লিভাকোভিচ।

আরও পড়ুন: আর্জেন্টিনা-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ নিয়ে কাশেফের ভবিষ্যদ্বাণী

এক মিনিট পর আর্জেন্টিনার রক্ষণে হানা দিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে বিপদ বাড়ার আগেই কোভাসিচকে আটকে দেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডাররা। ৩১ মিনিটে গোলের জন্য শট নেন পেরিসিচ। তবে তার শটটি চলে যায় বারের উপর দিয়ে। পরের মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ডি-বক্সে লিভাকোভিচের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। সফল স্পটকিকে দলকে এগিয়ে নেন লিওনেল মেসি। এ গোলের মাধ্যমে ১১ গোল করে ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোলস্কোরারের তালিকায় বাতিস্তুতাকে পেছনে ফেলেছেন তিনি।

৩৯ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ক্রোয়াটদের ডি-বক্সে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান হুলিয়ান আলভারেজ। এক মিনিট পর ডি-বক্সের বাইরে থেকে রদ্রিগো ডি পলের শট ক্রোয়াট ডিফেন্ডারদের বাধায় লক্ষ্যে থাকেনি। বিরতির আগে গোল শোধের সুযোগ পেয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে ওতামেন্দি ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের নৈপুণ্যে তাদের সে সুযোগ বিফলে যায়। ২-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

বিরতির পর জোড়া পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে ক্রোয়েশিয়া। সোসার বদলি হিসেবে নামেন ওরসিচ আর পাসালিচের পরিবর্তে নামেন ভ্লাসিচ। অবশ্য তাতেও বদলায়নি তাদের ম্যাচের ভাগ্য। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে একই ধার ধরে রাখে আর্জেন্টিনা। ৪৯ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে গোলের জন্য শট নেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। লোভরেন, জিভার্দিওলদের বাধা টপকালেও তার শটটি আটকে দেন গোলবারে থাকা লিভাকোভিচ।

৫৮ মিনিটে পেনাল্টি এরিয়া থেকে গোলের জন্য শট নেন মেসি। তবে লিভাকোভিচের বাধায় সে বল জালে জড়ায়নি। তিন মিনিট পর রক্ষণের শক্তি বাড়াতে পারেদেসকে তুলে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে মাঠে নামান স্ক্যালোনি। পরের মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোলের দারুণ সুযোগ নষ্ট করে ক্রোয়াটরা। অবশ্য ডি-বক্সে এগিয়ে এসে দলকে বিপদমুক্ত করেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। বারবার এগিয়ে এসে বল ক্লিয়ার করায় মদ্রিচরা কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারছিল না। ৬৭ মিনিটে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো।

গোল পরিশোধের বদলে ৬৯ মিনিটে উল্টো আলভারেজ হানায় তৃতীয় গোলটি হজম করে গত আসরের রানার্সআপরা। পাল্টা আক্রমণে ডানপ্রান্ত থেকে বল নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণে ঢুকে মেসি বল বাড়িয়ে দেন ডি-বক্সে থাকা আলভারেজকে। নিঁখুত শটে তিনি পরাস্ত করেন লিভাকোভিচকে। কাতার বিশ্বকাপে এ নিয়ে চতুর্থ গোলের দেখা পেলেন এ তারকা। 

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!