বাংলাদেশ

কুড়িগ্রামে শীতের তীব্রতায় হাসপাতালে রোগীর চাপ

<![CDATA[

প্রায় দেড় মাস ধরে শীতের প্রভাব পড়তে শুরু করলেও পৌষের শুরুতেই তাপমাত্রা নিম্নগামী হওয়ায় কুড়িগ্রামে দুর্ভোগ বেড়েছে মানুষের। ঘন-কুয়াশার সাথে নেমে আসা কনকনে ঠান্ডায় শীত জনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা ও বৃদ্ধরা। এতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বেড়েছে রোগীর চাপ।

প্রতিদিন বিকেল থেকে পর দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত ঘন-কুয়াশার সঙ্গে নেমে আসে কনকনে ঠান্ডা শীত। শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এবার শীত মৌসুম শুরুর পর থেকেই ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আন্তঃ ও বহির্বিভাগে বাড়তে শুরু করেছে রোগীর চাপ। ঠান্ডার প্রকোপে শিশুরা ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে আসছে হাসপাতালে। ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছেন বৃদ্ধরা। নির্দিষ্ট বেডের বিপরীতে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীর স্বজনরা।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৮ মাস বয়সী শিশুর বাবা এরশাদুল জানান, ঠান্ডার কারণে তার সন্তান ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। ১০ দিন থেকে ডায়রিয়া। মাঝে একটু সুস্থ হওয়ায় বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর আবার বেড়েছে। এজন্য আবারো তার সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

আরও পড়ুন: ফরিদপুরে হাসপাতালে রোগীর ভিড়, মেঝেতে চিকিৎসা

শীত জনিত রোগে আক্রান্ত শিশু ও বৃদ্ধরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ না হলে ভর্তি করাতে হচ্ছে হাসপাতালে। কয়েকদিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা রোগীদের স্থলে আসছে নতুন নতুন রোগী। বর্তমানে ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডেও প্রতিটি বেড়ে দুই থেকে তিনজন করে শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে।

শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে আসা আমেনা বেগম জানান, আমার বাচ্চার নিউমোনিয়া হয়েছে। ৫ দিন ধরে হাসপাতালে আছি। একটু সুস্থ হয়েছে। তবে একই বেডে দুজন করে শিশুর চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. কাকলী বেগম জানান, শিশু ওয়ার্ডে ৪৮টি বেডের বিপরীতে বর্তমানে ১১৮ জন রোগী রয়েছে। প্রত্যেকটি রোগীর সাথে আবার দুই থেকে তিনজন করে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। প্রতিদিনই রোগের সংখ্যা বাড়ছে। এতে করে চিকিৎসা সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে।
 

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহিনুর রহমান শিপন জানান, হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ৪৮টি, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১২টি এবং সাধারণ ওয়ার্ডে ৭৮টি বেড রয়েছে। এসব বেডের বিপরীতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ২৫০। আর প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় এক হাজার ৩০০ রোগী। হাসপাতালে চিকিৎসকসহ অন্যান্য জনবল সংকটের মধ্যেও সাধ্যমত চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!