বিশ্বের দশ দীর্ঘতম মেট্রোরেল
<![CDATA[
মানুষের শহরকেন্দ্রিক যাতায়াতের ক্ষেত্রে আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার একটি হলো মেট্রোরেল। যাতায়াত সহজ ও দ্রুত করতে বিশ্বের বহু দেশে অনেক আগে থেকেই এর ব্যবহার হচ্ছে। এতে একইসঙ্গে যেমন অনেকে যাতায়াত করতে পারেন, তেমনি এড়ানো যায় যানজট। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবহারের দিক থেকে যাত্রীদের পছন্দের তালিকায় এটি অনেকটাই এগিয়ে থাকে।
বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) উদ্বোধন হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল। রাজধানী ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ২১.২৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মেট্রোরেলটির ১১.৭৩ কিলোমিটারের যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে মেট্রোরেলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় দেশ হিসেবে আবির্ভূত হলো। পাকিস্তান ও ভারত যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট নামে বাংলাদেশের মেট্রোরেল পিলারের মাধ্যমে মাটির উপরে নির্মাণ করা হয়েছে– যাকে বলা হয় ওভারগ্রাউন্ড এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। তবে বেশিরভাগ শহরে মাটির নিচ দিয়ে মেট্রোরেল চলাচল করে, যা আন্ডারগ্রাউন্ড, সাবওয়ে বা টিউব নামে পরিচিত। বিশ্বের প্রথম মেট্রোরেল চালু হয় ১৮৬৩ সালে লন্ডনে। এছাড়া বিশ্বের বহু দেশে দীর্ঘ পথের মেট্রোরেল রয়েছে।
দেখে নেয়া যাক বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ ১০টি মেট্রোরেল লাইন কোনগুলো
১. সাংহাই মেট্রো
চীনে অবস্থিত সাংহাই মেট্রো পৃথিবীর দীর্ঘতম মেট্রো। ১৯৯৩ সালে ৮৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেট্রো নির্মাণ করা হয়। পৃথিবীর অন্যতম ব্যস্ত এই মেট্রোরেলে ৫০৮টি স্টেশন আছে। বছরে প্রায় তিন হাজার ৭০০ কোটি যাত্রী এই মেট্রো ব্যবহার করেন।
২. বেইজিং সাবওয়ে
পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম মেট্রোরেলের তালিকায় আছে চীনের আরেকটি মেট্রো লাইন। নাম বেইজিং মেট্রো। মাটির নিচ দিয়ে চলাচল করা ৭৮৩ কিলোমিটারের এই সাবওয়ের স্টেশন সংখ্যা ৪৬৩টি। পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে পুরনো এই সাবওয়েটি ১৯৭১ সালে উদ্বোধন করা হয়। চীনে এই সাবওয়েটি ‘আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রাগন’ নামেও পরিচিত।
৩. গুয়াংঝো মেট্রো
দীর্ঘতম মেট্রোরেলের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছে চীনের আরেক মেট্রোরেল, গুয়াংঝো। ৬০৭.৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই মেট্রো ১৯৯৭ সালে জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ২৯৪টি স্টেশনের এই মেট্রোতে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি মানুষ যাতায়াত করে থাকে।
৪. লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড
শহরের বাসিন্দাদের যাতায়াত সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড পৃথিবীর প্রথম মাটির নিচে নির্মিত মেট্রো। ১৮৯০ সালে এটি নির্মাণ করা হয়। দৈর্ঘ্যের দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে থাকা ৪০২ কিলোমিটারের এই মেট্রো স্থানীয়ভাবে ‘টিউব’ নামে পরিচিত। ২৭০টি স্টেশনের এই মেট্রোতে দৈনিক ৫০ লাখেরও বেশি যাত্রী যাতায়াত করে।
৫. নিউইয়র্ক সিটি সাবওয়ে
নিউইয়র্ক সাবওয়ে দীর্ঘতম মেট্রোলাইনের দিক থেকে পঞ্চম অবস্থানে আছে। ৩৯৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সাবওয়েটিতে ১৯০৪ সালে চালু হয়। এতে ৪৭২টি স্টেশন আছে। ১১৮ বছরের পুরনো সাবওয়েটি প্রতিদিন ৫০ লাখের ওপরে যাত্রী ব্যবহার করে থাকে।
৬. দিল্লী মেট্রো
পৃথিবীর ষষ্ঠ দীর্ঘতম মেট্রোটি রয়েছে বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতেই। ৩৯০.১৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দিল্লী মেট্রোতে ২৮৬টি স্টেশন রয়েছে। ২০০২ সালে এর উদ্বোধন হয়। গ্রীন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে সহায়তার জন্য বিশ্বের প্রথম কোন মেট্রোরেল এবং রেল ভিত্তিক সিস্টেম হিসেবে এটি জাতিসংঘ সনদ পেয়েছে।
৭. মস্কো মেট্রো
দীর্ঘতম মেট্রোরেলের তালিকায় সপ্তম স্থানে আছে মস্কো মেট্রো। ৩৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেট্রোর বর্তমানে স্টেশন সংখ্যা ২২৩টি। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই মেট্রো ১৯৩৫ সালে চালু হয়। এই মেট্রোর ‘পার্ক পোবেডি’ স্টেশনটি মাটির ৮৪ মিটার গভীরে অবস্থিত, যা পৃথিবীর তৃতীয় গভীরতম স্টেশন।
৮. উহান মেট্রো
করোনার প্রথম রোগী শনাক্তের শহর হিসেবে চীনের উহানের নাম অনেকেরই পরিচিত। এই উহান শহরেই আছে দৈর্ঘ্যের দিক থেকে পৃথিবীর অষ্টম দীর্ঘ মেট্রো। ৩৩৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই মেট্রোতে ২২৮টি স্টেশন আছে। ২০০৪ সালে স্টেশনটির উদ্বোধন হয়। এলিভ্যাটেড ও আন্ডারগ্রাউন্ড দুইভাবেই এটি পরিচালিত হয়।
৯. সিউল মেট্রোপলিটন সাবওয়ে
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানীতে অবস্থিত সিউলে মেট্রোপলিটন সাবওয়ে দীর্ঘতম মেট্রোর তালিকায় নবম অবস্থানে রয়েছে। ৩১৯.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সাবওয়ে ১৯৭৪ সালে চালু হয়। এর স্টেশন সংখ্যা ২৯৩টি।
১০. মাদ্রিদ মেট্রো
দশম অবস্থানে থাকা স্পেনের রাজধানীতে অবস্থিত মাদ্রিদ মেট্রোর দৈর্ঘ্য ২৯৪ কিলোমিটার। ৩০২ স্টেশনের এই মেট্রো ১৯১৯ সালে চালু হয়। বছরে প্রায় ৪৫ কোটি মানুষ মেট্রো ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া ফ্রান্সের প্যারিস, চীনের তিয়ানজিন ও সিঙ্গাপুর মেট্রো দীর্ঘতম মেট্রোর তালিকার ওপরের দিকে রয়েছে।
]]>




