সংকট-ষড়যন্ত্রেও অদম্য আওয়ামী লীগ
<![CDATA[
টানা ১৪ বছর ক্ষমতায় দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। তবুও বিদায়ী বছর ২০২২-এ এই দলটিকে মোকাবিলা করতে হয়েছে অন্তহীন সমস্যা। কিন্তু দলের প্রধান শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সব ঝঞ্ঝাট মোকাবিলা করেছে দক্ষতার সাথে। তিনি দেশেকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছেন অপ্রতিরোধ্যভাবে।
দেশি ষড়যন্ত্র আর নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ২০২২ পুরোটা জুড়েই আওয়ামী লীগ যেন ছিল এক অদম্য যাত্রায় অতন্দ্র প্রহরী। সাংগঠনিক দৃঢ়তা আর অবিচল নেতৃত্ব যেন আগের চেয়েও আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করেছে, করেছে অপ্রতিরোধ্য।
আওয়ামী লীগ যে সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল, তার প্রমাণ এ বছরই সবচেয়ে বেশি মিলেছে। বিরোধীদলগুলো রাজপথে আন্দোলনে নেমেও টিকতে পারেনি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দক্ষতার কারণে।
স্বপ্নের পদ্মাসেতু হোক কিংবা যানযটের শহরে জাদুর মেট্রোরেল; কর্ণফুলী টানেল হোক অথবা একদিনে শত সেতু উদ্বোধন—বছরটাই ছিল যেন আওয়ামী লীগের অর্জনে বাঙালি জাতির উৎসবের।
এক নজরে দেখে নেয়া যাক বিদায়ী বছরে কেমন ছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পথচলা-
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
বহু আলোচনার জন্ম দেয়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদে জয় পান আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ভোটে টানা তৃতীয়বারের মতো নারায়ণগঞ্জের মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তারেরর ঘোষিত ফল অনুযায়ী, মোট ১৯২টি কেন্দ্রের ফলাফলে সেলিনা হায়াৎ আইভী পান ১ লাখ ৬০ হাজারের মতো ভোট।
এই নির্বাচনে বেশ কজন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় টানা দুইবার মেয়রের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের মধ্যে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত। ১০৫ কেন্দ্রে তিনি ৫০ হাজার ৩১০ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টেবিল ঘড়ি প্রতীকের মনিরুল হক সাক্কু পান ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট।
পদ্মা সেতু উদ্বোধন
ষড়যন্ত্র আর প্রতিবন্ধকতাকে পেরিয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে জাতি হিসেবে এক স্পর্ধা দেখিয়ে দিয়েছে বাঙালি। গত ২৫ জুন চালু হয় ১৮ কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রমত্তা পদ্মার বুকে নির্মিত হওয়া এ পদ্মা সেতু দাঁড়িয়ে আছে এ দেশের মানুষের সাহসের প্রতীক হয়ে। মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল বিশ্বব্যাংক, অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল পদ্মা সেতু। কিন্তু থেমে থাকেনি এর কর্মযজ্ঞ। এ দেশের মানুষের শ্রমের টাকায় নির্মিত হয়েছে বহুমুখী এ সেতু, হাত পাততে হয়নি কারও কাছে। নির্মিত সেতুর প্রতিটি বালুকণায় লেগে আছে বাঙালির কষ্টার্জিত অর্থ। এ কেবল নিছক এক সেতু নয়, মাথা না নোয়াবার এক মূর্তিমান প্রতীক পদ্মা সেতু। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আমলে নির্মিত স্বপ্নের এ পদ্ম সেতুর কৃতিত্ব যুক্ত হয়েছে দলের পালকেও।
তৃণমূলকে চাঙা করতে ব্যস্ত ছিল আওয়ামী লীগ
করোনার কারণে ২০২০ ও ২০২১ সাল কোনো ধরনের সম্মেলন, সভা-সমাবেশ করতে পারেনি আওয়ামী লীগের নেতারা। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে করোনা দুর্বল হলে জনজীবন স্বাভাবিক হতে থাকে। এরপরই দল গোছানোর দিকে মনোযোগ দেয় ক্ষমতাসীন দল। এরইমধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক টিম জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সফর করে বেশ কিছু সম্মেলন, বর্ধিত সভা ও কমিটি ঘোষণা করেছে।
এ ছাড়া তৃণমূলের কোন্দল নিরসনে আলাপ-আলোচনা, দিকনির্দেশনা দিয়ে দলকে চাঙা করতে বছরজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।
তৃণমূলের সম্মেলন
চলতি বছর ঢাকা, ফরিদপুর, দিনাজপুর, ভোলা, টাঙ্গাইল, জামালপুর, বরগুনা, কুমিল্লা মহানগর, চুয়াডাঙ্গা, সিরাজগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর, ঝিনাইদহ, লক্ষ্মীপুর, পিরোজপুর, কুমিল্লা দক্ষিণ, জামালপুর, নোয়াখালী, কক্সবাজার, মাগুরা, নওগাঁ, নাটোর, মেহেরপুর, মানিকগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ আরও বেশ কয়েকটি জেলায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া শতাধিক উপজেলা ও বেশ কয়েকটি মহানগরের সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়। তৃণমূলের এসব সম্মেলন ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
১০০ সেতু উদ্বোধন
একযোগে একশটি সড়ক সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৭ নভেম্বর গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।
সেতুগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৫টি, সিলেট বিভাগে ১৭, বরিশাল বিভাগে ১৪, ময়মনসিংহে ছয়, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী ও রংপুরে পাঁচটি করে, ঢাকায় দুটি এবং কুমিল্লায় একটি রয়েছে। এসব সেতু উদ্বোধন ঘিরে সংশ্লিষ্ট জেলায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।
আওয়ামী লীগের সমাবেশ
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা-পর্যায়ের সম্মেলন করেছে দলটি। সমান তালে চলছে প্রচার-প্রচারণাও। দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের পর দীর্ঘদিন সভা-সমাবেশ এড়িয়ে চলেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে বছরের শেষ দিকে এসে কয়েকটি বিভাগীয় শহরে জনসমাবেশে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে যশোর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মহাসমাবেশে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। এ ছাড়া তিনি ছাত্রলীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনেও অংশগ্রহণ করেন।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয় নিয়ে অস্বস্তি
চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর সারা দেশে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নোয়াখালী জেলা পরিষদ নির্বাচন আদালত স্থগিত করে। ভোলা ও ফেনী জেলার সব পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন প্রার্থীরা। ২৬ জেলায় চেয়ারম্যান পদ ছাড়াও নারীদের জন্য সংরক্ষিত পদে ১৮ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৬৫ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
১০ ডিসেম্বর ঘিরে কর্মসূচি
১০ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী ছিল উত্তেজনা। সেদিন ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ ডেকেছিল বিএনপি। সমাবেশের স্থান নির্ধারণ নিয়ে শুরু থেকেই চলছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বির্তক। শুরুতে সরকার বিএনপিকে সমাবেশের জন্য ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি দিলেও সেখানে সমাবেশ করতে রাজি হয়নি বিএনপি। বিএনপি নয়াপল্টনের রাস্তায় সমাবেশ করতে চেয়েছিল। সমাবেশের চার দিন আগেই বিএনপির নয়াপল্টন অফিসে সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন দলটির নেতাকর্মীরা। তখন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন নিহত হন। এরপর সরকারের কাছে নতুন স্থানের আবেদন করে বিএনপি। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গোলাপবাগ মাঠে অনুমতি পায় দলটি। সেখানেই ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে সমাবেশের দুই দিন আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গ্রেফতারের কারণে রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়। সর্বত্র বিরাজ করে চরম উত্তেজনা। সেই উত্তেজনার মধ্যে, বলা যায় বেশ শান্তিপূর্ণভাবে ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ১০ দফা দাবি’ উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বিএনপির বিভাগীয় সম্মেলন।
যুব মহাসমাবেশ
উচ্ছ্বাস আর আনন্দের মধ্যদিয়ে সংগঠনের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গত ১১ নভেম্বর এ সমাবেশে নেতাকর্মীদের ঢল নামে।
যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে যুব মহাসমাবেশটি পরিচালনা করেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়।
ছাত্রলীগের সম্মেলন
এদিকে ৬ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে সম্মেলনে নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা না করে ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগে জানানো হবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ২০ ডিসেম্বর রাতে সাদ্দাম হোসেনকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করেন ওবায়দুল কাদের।
একই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তানভীর হাসান সৈকতের নাম ঘোষণা করা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগেরর সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাগর আহমেদকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এ ছাড়া রাজীবুল ইসলামকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সজল কুন্ডলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
ছাত্রলীগে যোগ্যদের মূল্যায়ন
সাদ্দাম হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদ্যবিদায়ী সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক এজিএস। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র। নানা কারণে সাদ্দাম হোসেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের আগে সবচেয়ে আলোচিত নাম ছিল সাদ্দাম হোসেন।
অন্যদিকে শেখ ওয়ালি ইয়াসির ইনান ছাত্রলীগের সাবেক সাংগাঠনিক সম্পাদক এবং বিজয় একাত্তর হলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। দায়িত্ব পালনকালে হল ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্যও কাজ করেন এই ছাত্রনেতা। ক্যাম্পাসে ক্লিন ইমেজের ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।
এ কমিটি নিয়ে তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় কমিটির সবার মধ্যেই স্বস্তি কাজ করছে। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাদের দাবি এবারই সবচেয়ে যোগ্য দুইজনকে মূল্যায়ন করা হয়েছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে।
আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় কাউন্সিল
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম ত্রিবার্ষিক জাতীয় কাউন্সিলে দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক হন ওবায়দুল কাদের। ২৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত ত্রিবার্ষিক জাতীয় কাউন্সিলে নির্বাচিত হন তারা। এই কাউন্সিলে অংশ নেন প্রায় ৭ হাজার কাউন্সিলর এবং ১৪ হাজার প্রতিনিধি।
সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সঙ্গে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে জাতীয় সংগীত গাইতে দেখা যায়। তার সঙ্গে উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীরাও জাতীয় সংগীতে সুর মেলান। সম্মেলনের প্রথম পর্ব শেষে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় বিকেল ৩টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে। এ অধিবেশনেই দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়।
এ সময় দলের নেতৃত্ব নির্বাচনে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
টানা ১০ বার সভাপতি শেখ হাসিনা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে টানা ১০ বারের মতো দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি টানা ১০ম বারের মতো দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন।
ওবায়দুল কাদেরের হ্যাটট্রিক
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম ত্রিবার্ষিক জাতীয় কাউন্সিলে দলটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে হ্যাটট্রিক করেন ওবায়দুল কাদের।
এর আগে ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদকের পদ পান ওবায়দুল কাদের। ২১তম কাউন্সিলেও তিনি পুনর্নির্বাচিত হন। ২২তম জাতীয় সম্মেলনে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়ে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন তিনি।
স্মার্ট বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশের পর এবার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ১২ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু অন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস’ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০৪১ সালে বাংলাদেশ ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে। ২০৪১-এর সৈনিক হিসেবে সবাই গড়ে উঠবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ করা হয়েছে বলেই করোনাকালে কোনো কাজ থেমে থাকেনি। এবার আমাদের টার্গেট আগামীর বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ।
মেট্রোরেল উদ্বোধন
স্বপ্নের মেট্রোরেলের যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। ২৮ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৫ মিনিটে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে বহুল প্রতীক্ষিত ও দেশের প্রথম মেট্রোরেলের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।
মেট্রোরেলের মোট ব্যয় প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এরমধ্যে জাইকা ঋণ দিচ্ছে ১৯ হাজার ৬৭৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। বাকি ১৩ হাজার ৭৯৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে খরচ করা হবে। ঋণের গ্রেস পিরিয়ড ১০ বছর। পরিশোধ করতে হবে ৩০ বছরের মধ্যে।
রংপুর সিটি নির্বাচন
রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যদিও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। দ্বিতীয়বারের মতো রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে জয়ী হন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান।
২৭ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় ২২৯টির কেন্দ্রের সব কটির ফলাফল ঘোষণা করা হলে দেখা যায়, লাঙ্গল প্রতীকের এই প্রার্থী পান ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৮ ভোট। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী (হাতপাখা প্রতীক) আমিরুজ্জামান। তিনি পান ৪৯ হাজার ৮৯২ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) লতিফুর রহমান ৩৩ হাজার ৮৮৩ ভোট পান। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হোসনে আরা লুৎফা (ডালিয়া) ২২ হাজার ৩০৬ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন।
মেয়র জাহাঙ্গীরের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার
বঙ্গবন্ধু ও মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তির ঘটনায় ফেঁসে যাওয়া গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর এ বছরের এক আলোচিত নাম। গত বছরের ১৯ নভেম্বর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার এবং ২৫ নভেম্বর তাকে মেয়র পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
তবে জাহাঙ্গীর আলমের দলে ফেরা নিয়ে গুঞ্জন সৃষ্টি হলে সে ধোঁয়াশার অবসান ঘটেছে। তরুণ এই নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। খোদ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে ক্ষমা করা হয়েছে। বেসরকারি একটি টেলিভিশনে একান্ত সাক্ষাৎকারে কাদের আরও বলেন, যে ভুলে তিনি সাজা পেয়েছেন, তার পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন না, এই শর্তেই তিনি ক্ষমা পেয়েছেন।
ডা. মুরাদের পতন
এ বছরের আরেক আলোচিত নাম ডা. মুরাদ হাসান। নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ছিলেন তিনি। বিএনপি নেতা তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে ফোনে ধর্ষণের হুমকি দেয়ার অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন মুরাদ হাসান। এরপর তাকে আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়। বিতর্কের মুখে দেশ ত্যাগ করলেও কানাডায় ঢুকতে না পেরে দেশে ফিরে আসেন তিনি।
]]>




