হানিফ বাংলাদেশী: ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক লড়াকু সৈনিক
<![CDATA[
সর্বগ্রাসী ঘুষ, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অর্থ পাচার এবং নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে ৬০তম হিসেবে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এবং ৪৫৫তম হিসেবে লালমনিরহাট সদর উপজেলায় স্মারকলিপি দিয়েছেন হানিফ বাংলাদেশী নামে এক ব্যক্তি।
বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্মারকলিপি দেন তিনি।
হানিফ বাংলাদেশী ৬৪ জেলা ও ৪৯৫ উপজেলা প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেবেন। তিনি গত ৫ জুন কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা থেকে শুরু করে প্রতিদিন ৩টি উপজেলা প্রদক্ষিণ করে ৩০ জানুয়ারি পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় গিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত করবেন।
কর্মসূচি সম্পর্কে হানিফ বাংলাদেশী বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার সর্বক্ষেত্রে সামাজিক, পারিবারিক ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় চলছে। ভোট, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের ওপর আগের সরকারে যারা ছিলেন সে সময়ও নগ্ন হস্তক্ষেপ হয়েছে, ঘুষ-দুর্নীতি, অর্থ পাচার হয়েছে, সামাজিক, পারিবারিক ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় আগেও ছিল এখন আরও চরম আকার ধারণ করেছে। আমাদের দেশের কৃষক উৎপাদনশীল, শ্রমিকরা পরিশ্রমী, ছাত্র-যুবকরা মেধাবী; কিন্তু দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতি, দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ, দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি আমলা, দুর্নীতিগ্রস্ত বড় বড় ব্যবসায়ী লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে আমাদের সব অর্জনকে ব্যাহত করছে। এত সম্ভাবনা থাকার পরও দেশ যতটুকু এগিয়ে যাওয়ার কথা, ততটুকু এগোচ্ছে না।
আরও পড়ুন: ছয়শ’ টাকার লাইসেন্স নিতে ১৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি!
‘দেশে অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু মানবিক মূল্যবোধের পতন হচ্ছে। আশা করি, সম্ভাবনাময় এই অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে এবং চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ঘুষ, দুর্নীতি ও অর্থ পাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত এনে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যুবকদের সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। ভোট, গণতন্ত্র, আইনের শাসনের মানোন্নয়নে আরও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে,’ যোগ করেন হানিফ।
তিনি আরও বলেন, আমি দেশের নানা অসংতি নিয়ে সবসময় প্রতিবাদ করে থাকি। এর আগেও ঢাকা শহরসহ দেশের জনবহুল স্থানে পাবলিক টয়লেট স্থাপনের আন্দোলন করেছি। ২০১৩-১৪ সালে দেশে যখন জ্বালাও-পোড়াও শুরু হয়, তখন দুই নেতৃত্ব বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। ২০১৯ সালের মার্চে ভোটাধিকারের দাবিতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া হেটে পদযাত্রা করেছি, নির্বাচন কমিশনকে পচা আপেল দিয়ে প্রতিবাদ করেছি। সংসদ ভবনের চারপাশে ১৬ বার প্রদক্ষিণ করে স্পিকার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি।
আরও পড়ুন: এ যুগের ঘুষ: কেউ শুধায়, কেউ চাপায়
‘২০২০ সালে সর্বগ্রাসী দুর্নীতির বিরুদ্ধে ৬৪ জেলা প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক অফিসে স্মারকলিপি দিয়েছি। সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবিতে প্রতীকী লাশ নিয়ে পদযাত্রা করেছি। ২০২১ সালে দেশব্যাপী গণতন্ত্রের জন্য গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছি। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের দাবি সংসদ ভবনের সামনে ঘণ্টা বাজিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি। ২০২১ সালে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের দাবিতে মাথায় ভোটের বাক্স নিয়ে ৬৪ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। এখন ৫০ বছর ধরে চলমান দুর্নীতি-দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়ার উদ্যোগ নিয়ে কর্মসূচি শুরু করেছি। আমার এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশবাসী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।’
]]>




