চীনের কারণে বিশ্বজুড়ে করোনায় প্রাণহানির পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া যাচ্ছে না
<![CDATA[
চীন করোনার সঠিক তথ্য না দেয়ায় বিশ্বজুড়ে প্রাণহানির পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও। এ নিয়ে খোদ চীনেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জিরো কোভিড নীতি বাতিলের পর সীমান্ত খুলে দেয়া হলেও যাত্রী সংকটে ভুগছে চীনের এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলো। খবর এপির।
সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, জিরো কোভিড নীতি বাতিলের পর চীনে হুহু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। তবে প্রতিদিন ঠিক কতজন লোক সংক্রমিত হচ্ছে বা করোনায় মারা যাচ্ছে, সে বিষয়ে দেশটির পক্ষ থেকে সঠিক কোনো তথ্য সরবরাহ না করার অভিযোগ করেছে ডব্লিউএইচও।
বুধবার (১১ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক বলেন, চীনকে বারবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সরবরাহের কথা বলা হলেও মানছে না দেশটি। এতে বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণ ও মৃতের সঠিক তথ্য তুলে ধরা যাচ্ছে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেন, ‘গেল এক সপ্তাহে কোভিড আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ শতাংশ, ইউরোপ ও পশ্চিম প্রশান্ত অঞ্চলে যথাক্রমে ৩০ শতাংশ। তবে এ তথ্য অসম্পূর্ণ। কারণ, চীনা সরকার এ নিয়ে কোনো সঠিক তথ্য দিচ্ছে না। তাই আমরা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না, গোটা বিশ্বে গেল সপ্তাহে ঠিক কতজন মারা গেছে।’
আরও পড়ুন: চীনের যে প্রদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ করোনায় আক্রান্ত
তবে শি জিনপিং প্রশাসনের এমন অবহেলায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীনের সাধারণ মানুষ। তারা বলছে, নিজ দেশের তথ্য সংরক্ষণের সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে চীনের।
দেশটির স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমার মনে হয় অন্যান্য বিশ্ব ও রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে যথেষ্ট স্বচ্ছতা বজায় রেখে চীনা প্রশাসন তাদের তথ্য আদান-প্রদান করছে। শুধু বহির্বিশ্ব নয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গেও তারা সমস্ত তথ্য ভাগাভাগি করছে।’ আরেকজন বলেন, ‘চীনের করোনা তথ্য অন্যের কাছে দেয়ার দরকার আছে বলে মনে হয় না। নিজেদের তথ্য অন্যদের কেন দেব আমরা।’
আরও পড়ুন: ‘জিরো কোভিড’ নীতিকে বিদায় জানিয়ে সীমান্ত খুলে দিল চীন
২০২০ সালে মহামারি শুরুর পর থেকে প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ লকডাউন, কোয়ারেন্টাইনসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করে চীন সরকার। তবে গেল বছরের ডিসেম্বরে নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে শি জিনপিং প্রশাসন। চলতি মাসে খুলে দেয়া হয় সীমান্ত।
দীর্ঘ তিন বছর পর সীমান্ত খুলে দেয়া হলেও আশানুরূপ ভ্রমণকারী পাচ্ছে না ট্রাভেল এজেন্সিগুলো। এতে চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। এ জন্য কম ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন বিমান, টিকিটের মূল্য বৃদ্ধি, বিভিন্ন দেশের চীনের ওপর কড়াকড়ি আরোপকে দায়ী করেছে এয়ারলাইনসগুলো।
]]>




