হোঁচট খেতে পারে দেশের তৈরি পোশাক খাত!
<![CDATA[
বিশ্বমন্দার শঙ্কার মধ্যেও রফতানিতে ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ। প্রবৃদ্ধির হিসাবে গত বছরের জানুয়ারি থেকে ইউরোপ-আমেরিকায় শীর্ষস্থান দখলে রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। তবে চলতি বছর শুরু থেকেই হোঁচট খাওয়ার আশঙ্কা এ খাতের দুই শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ ও বিজিএমইএর।
মূল্যস্ফীতির চাপে যখন সংকুচিত বিশ্ববাজার তখন নভেম্বর-ডিসেম্বর টানা দুই মাস রফতানি আয়ের রেকর্ড গড়ে গত বছর পার করেছে বাংলাদেশ। যার নেতৃত্ব দিয়েছে তৈরি পোশাক খাত।
বিশ্বমন্দার চাপের মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে কতটা শক্ত অবস্থান বাংলাদেশের?
ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের রফতানি আয় বেড়েছে ৪৩ দশমিক ২১ শতাংশ; যা ওই অঞ্চলে পোশাক রফতানিকারকদের মধ্যে সর্বোচ্চ। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ইউরোপের বাজারে পণ্য বিক্রি করে ১৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। যেখানে চীনের আয় ছিল ২২ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার আর প্রবৃদ্ধি ছিল ২৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। অপরদিকে তুরস্ক আয় করেছে ৯ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার।
আরও পড়ুন: দেশের অর্থনীতিতে ৫০ ভাগ এসএমইর অংশগ্রহণ থাকা জরুরি: বাণিজ্যমন্ত্রী
অটেক্সার পরিসংখ্যান বলছে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রেও প্রায় ৫০ দশমিক ৯৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাজার দখলে সবচেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। এ সময়ে দেশটি থেকে ৭ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় দেশে এসেছে।
এ ছাড়া অপ্রচলতি বাজারেও প্রায় ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে গত ৬ মাস পার করেছেন মেইড ইন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা।
এমন দাপটের পরও রফতানি আয়ে বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা করছে নিট পোশাক রফতানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।
সংগঠনটির নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, যারা আমাদের সুতাসহ বিভিন্ন কাঁচামাল সরবরাহ করছে, তাদের পণ্যের এলসিগুলো (ঋণপত্র) কিন্তু ঠিক সময়ে হচ্ছে না। ফলে সেখানে কিন্তু একটি সমস্যা দেখা দেবে। সেই সঙ্গে সংকটও দেখা দেবে। এতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এ অবস্থায় বাজার ধরে রাখতে সরকারকে নীতি-কৌশল সহজ করার তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
আরও পড়ুন: নতুন বছর পোশাক শিল্পের জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং হবে: বিজিএমইএ সভাপতি
সংগঠনটির সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ক্রস বর্ডারের রেস্ট্রিকশন কমিয়ে আনতে হবে। তা ছাড়া আমদানি-রফতানি বাণিজ্য আরও সহজ করতে হবে। বিশেষ করে কাস্টমসে আমাদের বন্ডের ও ভ্যাটের সমস্যা আছে, সেগুলোকে আরও সহজ করতে হবে, তাহলে আমাদের রফতানির ধারা বজায় থাকবে।
তবে বাংলাদেশের বড় শক্তি বেসিক পোশাক, তাই বড় কোনো পতনের শঙ্কা নেই বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর।
তা ছাড়া রফতানি বাজারে সুবিধা আদায়ে সবুজ শিল্পায়নের প্রচারণা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
]]>




