এক কলমের দাম ২৬ হাজার টাকা!
<![CDATA[
একটি কলম। যার নিব বানানো হয়েছে ১৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে আর দাম ২৬ হাজার টাকা। এর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান পাইলট করপোরেশন বলছে, এটি চাইলেই যে কেউ কিনতে পারবেন; তবে লিখতে চাইলে অবশ্যই হতে হবে পেশাদার। এমনই সব তাক লাগানো কলম নিয়ে এবারও বাণিজ্য মেলায় হাজির হয়েছে জাপানি প্রতিষ্ঠানটি। যেখানে এসে শিশুরা পাচ্ছে নতুন অভিজ্ঞতা আর বড়রা ভাসছেন স্মৃতির ছোঁয়ায়।
জাপানি কোম্পানি পাইলট করপোরেশন কাস্টম এইট টু থ্রি নামের একটি কলম নিয়ে এসেছে বাণিজ্য মেলার এবারের আসরে। কলমটির নিব বানানো হয়েছে ১৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে; যার মোট ওজন ৩০ গ্রাম আর দাম ২৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে একটি বিক্রিও হয়েছে।
কলমটির ক্রেতা বলেন, ‘আমি বিভিন্ন ধরনের কলম সংগ্রহ করতে পছন্দ করি। এবার বাণিজ্য মেলায় কাস্টম এইট টু থ্রি আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। তাই আমি একটি কিনেছি।’
কলমটির প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি বলছে, যে কেউ চাইলেই এটি সংগ্রহ করতে পারবে; তবে কলমটি দিয়ে লিখতে প্রয়োজন ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার।
আরও পড়ুন: তীব্র শীতে বাণিজ্য মেলায় ক্রেতাদের আগ্রহ শাল-ব্লেজারে
প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, এটির বিশেষত হচ্ছে, এটি ফ্ল্যাক্সিবল নিবের একটি ফাউন্টেন পেন। এ কলম দিয়ে যেকোনোভাবেই লেখা যাবে। মূলত যার যার প্র্যাকটিসের ব্যাপার।
কাস্টমের পাশাপাশি রয়েছে সোনায় মোড়ানো নিবে তৈরি ক্যাপলেস পেন। সেই সঙ্গে রয়েছে হোয়াইট টাইগার, ক্রোকোডাইল, লিপার্ডসহ এনিমেল সিরিজের কলমও। যেগুলোর দাম পড়বে ২ হাজার ২০০ থেকে সাড়ে ১২ হাজার টাকা। এমনসব দামি ফাউন্টেইন পেনের পাশে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৫ টাকা দামের কলমও। এমনই শত রং-দামের কলমে সাজানো হয়েছে পাইলটের স্টলটি। যেখানে দিনভর থাকে শিশু-কিশোর আর অভিভাবকদের আনাগোনা।
এক শিশু ক্রেতা বলে, ‘আমার বাবার কাছে পাইলট কলমের কথা শুনেছি। তাই এবার মেলায় একটি কিনেছি। তা ছাড়া লেখার পর মোছা যায় আর কলমের ডিজাইনও একটু ভিন্ন। তাই আমার কলমগুলো বেশ পছন্দ হয়েছে।’
বাচ্চাদের পছন্দের কথা উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, ‘আমাদের নতুন ফ্রিকশন পেনে ক্রেতাদের আকর্ষণ বেশি। কারণ, এটি দিয়ে লিখে আবার মুছে ফেলা যায়। বাচ্চারা এটিকে ম্যাজিক পেন হিসেবে চেনে।’
পাইলটের এই স্টলে এসে অনেকেই ফিরে যান তাদের শৈশব-কৈশোর আর উচ্চতর লেখাপড়ার দিনগুলোতে। কেউ আবার সন্তানকে নিয়ে এসেছেন নিজের ভালোলাগা আর অতীতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে।
আরও পড়ুন: বাণিজ্য মেলায় তুর্কি ঝাড়বাতি-কার্পেটের স্টলে ভিড় বেশি
এমনই একজন বলেন, ‘আমি ছোটবেলায় পাইলট কলম ব্যবহার করেছি। এ প্রজন্মের শিশুরা তো জানেই না যে পাইলট পেন বা ফাউন্টেন পেন কী জিনিস। আমার সন্তানকে এ কলম নিয়ে যখন আমার ছোটবেলার গল্প শোনালাম, তখন সে এটি কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে।’
আরেক ক্রেতা-দর্শনার্থী বলেন, ‘বাবার কাছে যখন প্রথম পাইলট কলম পেয়েছিলাম, ওই সময় আসলে কিছুই বুঝতাম না। যখন বুঝেছি, তখন এটির দাম অনেক বেশি দেখেছি। পাশাপাশি বাজারে তেমন একটা পাওয়াও যেত না। বিশ্ববিদ্যালয় থাকাকালীন পাইলট কলম দিয়ে অ্যাসাইনমেন্ট করেছি। যার জন্য এ কলমের প্রতি একটি দুর্বলতা রয়েই গেছে।’
পাইলট করপোরেশনের যাত্রা শুরু ১০৫ বছর আগে ১৯১৮ সালে জাপানের টোকিও-তে। জুয়েলারিসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করলেও কলমের কল্যাণেই পাইলটের অনন্য পরিচিতি বিশ্বব্যাপী।
]]>




