২৫ বছর ধরে শিকলে বাঁধা শাকিল!
<![CDATA[
বাঁশের খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাধা দুই হাত। সারা শরীরে ময়লা। খুঁটির বাঁধন ছিঁড়ে ফেলার প্রাণপণ চেষ্টা। একপর্যায়ে ক্লান্ত, নির্বাক। খাওয়াদাওয়াও এখানেই। এভাবেই ২৫ বছর ধরে চলছে প্রতিবন্ধী শাকিলের জীবন (২৮)।
শাকিল কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কোদালিয়াপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র মুক্তার হোসেনের ছেলে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জন্ম থেকেই শাকিল প্রতিবন্ধী। কথা বলতে পারেন না। বুকে হামু দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে পারেন। কিন্তু দৌড়াতে পারেন না। তবুও ঘরের মেঝেতে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয় তাকে। সকালে শীতে কাঁপছে আর এলোমেলো করে কিছু বলার চেষ্টা করছে শাকিল।
আরও পড়ুন: মহেশখালীতে ফের মিলল ডিভাইস বাঁধা পাখি!
শাকিলের মা শিখা খাতুন জানান, শ্বশুরের পৈতৃক ভিটায় এক কাঠা জমির ওপর আমাদের ঘর। স্বামী মুক্তারও মানসিক রোগী। পরিবারে দুই সন্তান। এক মেয়ে ও এক ছেলে। বড় সন্তান শাকিল। আমাদের স্বপ্ন ছিল ছেলেকে পড়ালেখা করিয়ে চাকরিতে দেবো। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস জন্মের পর কিছুদিন যেতেই মানসিক সমস্যা দেখা দেয় শাকিলের। অন্যের বাসা-বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাই। তবুও দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে মানসিক চিকিৎসক দেখিয়েছি। তবে ভালো হয়নি। তবে বড় ডাক্তার দেখাতে পারি নাই টাকার অভাবে।
তিনি বলেন, কোথাও চলে যাবে তাই এভাবেই ঘরের মেঝেতে ছেলেকে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখি। আবার মাঝে মাঝে শিকলেও বাঁধা হয়। তিন বছর বয়স থেকেই তাকে এভাবে বেধে রাখা হচ্ছে। দিনে এক-দুবার খাবার দেয়া হয়। বাঁধা অবস্থায় খাওয়ানোসহ সব কিছু করানো হয়। মানুষ দেখলে বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকেন। কখনো কখনো আবার উত্তেজিতও হয়ে ওঠে শাকিল। শাকিলের চিকিৎসা করাতে বিপুল অর্থ প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে ঘর থেকে হাত-পা বাঁধা নারীর মরদেহ উদ্ধার
এ বিষয়ে চাঁদ গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হাফিজ তপন জানান, পরিষদের মাধ্যমে যতটুকু সাহায্যে সহযোগিতা করা সম্ভব তা আমি করে যাচ্ছি। আর ওকে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার কথা আমি শুনিনি।
এ ব্যাপারে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিনা মমতাজ বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ খবর নিয়ে শাকিলের পাশে দাঁড়াবে উপজেলা প্রশাসন।
]]>




