আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া
<![CDATA[
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় আশ্রয় নিলেও বিতাড়িত হচ্ছে রোহিঙ্গারা। দেশটির আচেহ প্রদেশে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হলেও সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এশিয়া নিউজ নেটওয়ার্কের প্রতিবেদন অনুসারে, ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয়রা বলছেন, রোহিঙ্গা স্থায়ীভাবে আশ্রয় নিলে হুমকির মুখে পড়বে তাদের জীবন-জীবিকা। ইউএনএইচসিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ডের উচিত বাংলাদেশের মতো রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া।
কয়েক মাস ধরেই অবৈধভাবে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে ইন্দোনেশিয়া আশ্রয় নেয়া শুরু করেছে রোহিঙ্গারা। গত কয়েক সপ্তাহে কাঠের নৌকায় দেশটির আচেহ প্রদেশের উপকূলে পৌঁছায় এক হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। ঝুকিপূর্ণ এ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। আচেহ উপকূলে উদ্ধারকৃত রোহিঙ্গাদের জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তত্ত্বাবধানে আশ্রয় দেয়া হলেও তাদের বিতাড়িত করার অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিনের জন্য আশ্রয় নিলে আচেহ উপকূলের জীববৈচিত্র্য নষ্টের পাশাশাপাশি তাদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের আশ্রয় দেয়ার বিপক্ষে তারা।
স্থানীয় একজন বলেন, ‘জানি তাদের সহযোগিতা করা উচিত। সেভাবে আমরা সাহায্য সযোগিতাও করছি। কিন্তু এভাবে কত দিন। খুব বেশিদিন তো করা যাবে না। এখানকার জীবিকা নির্বাহ এমনিতেই অনেক কঠিন। আমরা নিজেই ভালো নেই।’
তবে রোহিঙ্গাদের বক্তব্য হলো, মানবিক কারণে ইন্দোনেশিয়া সরকারের উচিত তাদের আশ্রয় দেয়া। নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সুযোগ হলে নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার কথাও জানান তারা।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার বিষয়ে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোকে মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের মতো এই দেশগুলোর উদার মনোভাব নিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
]]>




