‘দেইখ্যা লন, বাইছা লন একদাম ৫০, একদাম ১০০’
<![CDATA[
‘দেইখ্যা লন, বাইছা লন একদাম ৫০, একদাম ১০০ টাকা’ ছন্দের তালে তাল মিলিয়ে বিক্রেতারা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছেন। আর উৎসুক ক্রেতা-দর্শনার্থীরা তাদের চারপাশ ঘিরে উপভোগ করছেন এ ধরনের অজস্র হাক-ডাক।
মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের লালদীঘিরপাড়ের প্রধান সড়কের ফুটপাতের অস্থায়ী ভ্যানে শীতের কাপড় বিক্রিতে এ ধরনের হাক-ডাক শুনতে পাওয়া যায়।
শীতের কাপড় বিক্রেতা শাকিল আহমেদ হাকছেন ‘বাকি যদি নিবার চান, জমির দলিল দিয়া যান’। ‘দেইখা লন, বাইছা লন, একদাম ১০০’ ইত্যাদি। তার সঙ্গে তাল দিচ্ছেন অপর দুই কাপড় বিক্রেতা সাইদু ও আজিজ। তারা হাকছেন ‘দেইখ্যা লন, বাইছা লন একদাম ৫০টাকা। এভাবেই ক্রেতা সাধারণের মনযোগ আকর্ষণ করে চলছে তুমুল শীতের কাপড় বেচা-বিক্রি।
সন্ধ্যায় শহরের লালদীঘিরপাড়ের প্রধান সড়কে দেখা যায়, রাস্তার সংস্কার কাজ চলার কারণে যানবাহন চলাচল করছে না। এই ফাঁকে বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত প্রধান সড়কে ফুটপাতগুলোতে ভ্যানে শীতের কাপড় রেখে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। প্রধান সড়কে রাখা হয়েছে ৫০ থেকে ৬০টি ভ্যান। প্রতিটি ভ্যানে জ্বলছে লাইট। বড়দের শীতের কাপড়ের পাশাপাশি রয়েছে ছোটদের শীতের কাপড়ও। প্রতি পিস শীতের কাপড়ের সর্বোচ্চ মূল্য একদাম ১০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন দাম হাঁকাচ্ছে ৫০ টাকা।
আর এসব ভ্যানের সামনে ক্রেতাদের ভিড় লেগে আছে। পুরুষদের পাশাপাশি রয়েছেন নারীরাও। সবাই শীতের কাপড় কিনতে ব্যস্ততায় রয়েছেন।
আরও পড়ুন: ১৭ জেলায় বয়ে যাবে শৈত্যপ্রবাহ
কথা হয় বিক্রেতা শাকিল আহমেদ এর সঙ্গে। তিনি জানান, এখানে জিন্সের প্যান্ট, জ্যাকেট, ব্লেজার ও সোয়েটার রয়েছে। শীতের তীব্রতা একটু বাড়ার কারণে কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।
ভ্যান থেকে বাচ্চার জন্য শীতের কাপড় কেনা নুনিয়ারছড়ার বাসিন্দা জাহানারা বেগম বলেন, “কক্সবাজারে এ বছর শীত বেশি পড়ছে। তাই বাচ্চা ও আমার জন্য শীতের কাপড় কিনতে এসেছি। কিন্তু মার্কেটে না গিয়ে এবার ফুটপাতের কাপড় কিনতে আসলাম। এখানে দেখি বাচ্চাদের প্রতি পিস কাপড়ের দাম ৫০ টাকা, আর বড়দের কাপড়ের দাম ১০০ টাকা। এটা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।’
চকরিয়ায় থেকে আসা সরওয়ার নামের এক ক্রেতা বলেন, আদালতের কাজে কক্সবাজার এসেছিলাম। এখান চকরিয়ায় চলে যাওয়ার সময় ফুটপাতে কাপড় বিক্রি দেখে ছুটে এলাম। ৫০০ টাকায় স্ত্রী ও বাচ্চার জন্য অনেকগুলো শীতের কাপড় কিনলাম।
শীতের কাপড় বিক্রেতা সালাম বলেন, গত এক মাস ধরে লালদীঘিরপাড়ের সংস্কার কাজ চলায় প্রধান সড়কে ভ্যানে করে কাপড় বিক্রি করছি। কিছু দিন পর এখান থেকে উঠে যেতে হবে। তখন সুগন্ধা পয়েন্ট, কলাতলীর মোড় ও বাস টার্মিনালে গিয়ে কাপড় বিক্রি করব।
]]>




