ডিপ মেশিনের পানি না নেয়ায় ৫৪ কৃষকের বীজতলা কীটনাশকে ধ্বংস
<![CDATA[
৬৫ বছরের আনোয়ারা বেগম। দুই মাস আগে স্বামী হারিয়ে সংসারে দায়ভার পড়েছে তার ওপর। নিজের সাড়ে চার বিঘা জমিতে চলতি বোরো চাষের জন্য সাত কেজি বীজ ফেলে তৈরি করেছিলেন বীজতলা। দুষ্কৃতকারীরা তার বীজতলা কীটনাশক দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। এখন তার চোখেমুখে অন্ধকার। আনোয়ারার মতো অন্ধকার দেখছেন মাজেদা বেগম, বাছিতন খাতুনসহ ৫৪ কৃষক।
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ভারতীয় সীমানা ঘেঁষা পাররামপুর ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামে ডিপ মেশিনের পানি না নেয়ায় শাহজাহান নামে এক দুষ্কৃতকারী রাতের আঁধারে আগাছানাশক প্রয়োগ করে ৫৪ কৃষকের বোরো ধানের বীজতলা পুড়িয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: লাউ গাছের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা!
কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রতিবছর বোরো আবাদ করার সময় এলাকার শাহজাহানের ডিপ মেশিন থেকে পানি নিতেন। এ বছর গ্রামে বিদ্যুৎ আসায় তারা নিজেরা ইঞ্জিনচালিত মেশিন দিয়ে পানির ব্যবস্থা করেছেন। ডিপ মেশিন থেকে পানি না নেয়ায় শাহজাহান রাতের আঁধারে আগাছানাশক প্রয়োগ করে পুড়িয়ে দিয়েছে এলাকার ৫৪ জন কৃষকের বীজতলা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চোখেমুখে নেমে এসেছে অন্ধকার। ক্ষতিগ্রস্তরা এ ঘটনায় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, পুরো বছরের খরচ চলে এই বোরো চাষ করে। এখন বীজতলা পুড়িয়ে দেয়ায় তারা চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন। সারা বছরের খাবার ও সন্তানের লেখাপড়ার খরচ কীভাবে চালাবেন। তারা ক্ষতিপূরণসহ অভিযুক্ত শাহজাহানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: মাছের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা
পাররামপুর ইউনিয়নের ব্লক সুপারভাইজার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘অন্য কোনো ফসল হলে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যেত। এ মুহূর্তে কৃষকরা বোরোর চারা রোপণ শুরু করেছেন। ইচ্ছা করলেই চারা উৎপাদন করে আবাদ করতে পারবেন না।’
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলমগীর আজাদ বলেন, ‘কতিপয় দুষ্কৃতকারী বেশ কিছু কৃষকের বীজতলা আগাছানাশক দিয়ে নষ্ট করেছে। জানামাত্রই সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। কৃষকরা আমার অফিসেও এসে একটি অভিযোগ করেছেন। তদন্ত চলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দেয়া হবে।’
বিষ প্রয়োগের ফলে ৫৪ জন কৃষক এ বছর ১৪০ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ থেকে বঞ্চিত হবেন।
]]>




