তীব্র শৈত্যপ্রবাহও ছুঁতে পারছে না আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাওয়া মানুষকে
<![CDATA[
এক বছর আগেও শীতে দুর্বিষহ ছিল জীবন। এখন আর সেই কষ্ট নেই। পঞ্চগড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহও ছুঁতে পারছে না সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাওয়া মানুষজনকে। কমেছে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের হারও। এখন উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন তারা।
মাঘের সকালের মিষ্টি রোদে কচিকাঁচার মেলা। উঠানজুড়ে যেন উৎসবের ঢেউ। শিশুর আনন্দের এই ছটা থেকে বাদ পড়েননি বড়রাও। আনন্দমুখর এমন শীতের সকাল দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের মাহানপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে।
একটা সময় শীতে দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হলেও জীবন এখন উষ্ণতা আর প্রশান্তিতে ভরা। নেই আগের সেই হাড় কাঁপানো শীতের ভয়। মিষ্টি রোদে পাকা ঘরের বারান্দায় বসে সন্তানসহ অভিভাবকদের খুনসুটি যেন তারই প্রমাণ।
রাস্তার ধারে অথবা অন্যের জমিতে পলিথিনে মোড়ানো খুপরিঘরের জীবন এখন অতীত। সেই জীবনে এখন শুধু পাকা বাড়িই আসেনি এসেছে খাট, আলমারিসহ নানা আসবাব। পেয়েছে গরম কাপড় লেপ এবং কম্বল।
সুবিধা পাওয়া মানুষজন বলছে, আগে পলিথিন দিয়ে শীত আটকাতে পারিনি। এখন নিজের ঘরে আছি। পাকা ঘরে শীত লাগে না। বাচ্চাদের নিয়ে শান্তিতে বসবাস করছি।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর বিক্রি, অভিযুক্তকে কারাদণ্ড
ঘরের অভাব পূরণের পর মৌলিক চাহিদা শিক্ষার অধিকার আদায়ে সচেতন বয়স্ক মানুষ। তারই জ্বলন্ত প্রমাণ আশ্রয়ণকেন্দ্রের বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র।
তারা বলছেন, আগে পড়তে পারতাম না। এখন অনেক কিছুই পড়তে পারছি। অনেক কিছুই শিখছি। এখানে বাংলা, ইংরেজি, অংক ও আরবি পড়ছি। খুব ভালো লাগছে।
শুধু ঘর এবং জমিই নয়, আশ্রয়ণ কেন্দ্রে বসবাসকারীদের আত্মনির্ভরশীল করার জন্যও কাজ করছে সরকার।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের ডাটাবেজ অনুযায়ী, ৮৫০টি পরিবার এবং ১৫ হাজার ১৫৯ মানুষ সরকারি সুবিধার আওতায় রয়েছে। এ ছাড়া আড়াই হাজার মানুষ শিক্ষা পাচ্ছে। তারা এখন আত্মনির্ভরশীল এবং আত্মমর্যাদার জায়গায় পৌঁছে গেছে।
আরও পড়ুন: তাপমাত্রা ও শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে আবহাওয়া অফিসের বার্তা
জেলার চার হাজার ৮৫০টি পরিবারকে জমি ও ঘর দিয়ে গত বছরের ২১ জুলাই প্রথম গৃহহীন ও ভূমিহীনমুক্ত জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় পঞ্চগড়।
]]>




