বিনোদন

ভারত থেকে ভিডিওতে অ্যাসিডদগ্ধ সুমাইয়ার আকুতি ‘প্লিজ আমাকে বাঁচান’

<![CDATA[

‘আপনারা আমার চিকিৎসা খরচ জোগান দিয়ে আমাকে একটু বাঁচান। আমি আর অ্যাসিডের পোড়া যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছি না। প্লিজ, আপনারা আমাকে বাঁচান।’

বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলামের হোয়াটসঅ্যাপে কান্নাকণ্ঠে একটি ভিডিও বার্তায় এভাবে আকুতি করেন ভারতের ভেলরে চিকিৎসাধীন অ্যাসিডদগ্ধ ফেরদৌসৗ সুমাইয়া (১৮)।

অ্যাসিডদগ্ধ ফেরদৌসৗ সুমাইয়া পটুয়াখালী সদর উপজেলার রাজা মিয়া গাজী ও তাসলিমা বেগম দম্পতির সন্তান ফেরদৌসৗ সুমাইয়া (১৮)। সুমাইয়া অনার্স প্রথম বর্ষে পটুয়াখালী সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্রী।

স্বজনরা জানান,  গত ২০২১ সালের ৩ আগস্ট রাতে আপন চাচাতো ভাইয়ের অ্যাসিড নিক্ষেপে ঝলসে যায় সুমাইয়া ও তার ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী। এ ঘটনার পর গত ২০২১ সালের ২৮ আগস্ট সুমাইয়ার খালা রেবেকা বেগম বাদী হয়ে ওই এলাকার এনায়েত গাজীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২২ সালের ১৫ অক্টোবর ওই এনায়েত গাজী (৩০), রাসেল গাজী (৩০) ও রাসেলের স্ত্রী মারিয়া বেগমের (২০) নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন: খুলনায় ঘুমন্ত নারীর শরীরে এসিড নিক্ষেপ

স্বজনরা আরও জানান, স্থানীয়ভাবে সুমাইয়া চিকিৎসা নিয়ে ভালো না হওয়ায় ভারতে গিয়ে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, তবে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা হওয়ায় টাকা শেষ হয়ে গেলে মেয়ে আর মেয়ের মাকে রেখে দেশে চলে আসে সুমাইয়ার বাবা রাজা মিয়া গাজী এবং সম্প্রতি সুমাইয়ার মা ও তাকে রেখে দেশে চলে আসেন।

এদিকে সুমাইয়া অর্থের অভাবে ওষুধ কিনে খেতে পারছেন না এবং তার বাবা-মাও দেশে চলে যাওয়ায় ভারতে তিনি এখন একা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। সুমাইয়া আকুতি ও কান্নাকাটি করে এমন একটি ভিডিও বার্তা বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মো.সাইদুল ইসলাম হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছেন।

আরও পড়ুন: পূর্ণিমার সাবেক স্বামীর ভিডিও বার্তা

ভিডিও বার্তায় ফেরদৌসী সুমাইয়া জানান, ‘আমার চাচাতো ভাই আমাকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে, এরপর চিকিৎসার জন্য আমার বাবা ও মা আমাকে নিয়ে ভারতের ভেলরে চিকিৎসা করাতে এসেছেন। টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রথমে বাবা দেশের বাড়িতে চলে যান এবং গত ২-৩ দিন আগে মাও চলে যান। এখন আমি ভেলরে একা পড়ে আছি। অর্থের অভাবে ওষুধ কিনে খেতে না পারায় আমার মুখ ফুলে উঠেছে এবং প্রচণ্ড যন্ত্রণা করছে। আমি আমার চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে কথা বলায় বাবা আমার ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ।

এ প্রসঙ্গে সুমাইয়ার বাবা রাজা মিয়া গাজী বলেন, ‘আমি আইছি এক মাস হইছে, বাড়িতে ধান-পান আছে মাড়াই করা লাগবে এই জন্য। আওয়ার পর ২০ হাজার টাকাও পাঠাইছিলাম, আবার পাঠামু।’

সুমাইয়ার মা তসলিমা বেগম বলেন, ‘আজকেও আমার মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। স্যালাইন চলতেছে, আমি ভারত থেকে চলে এসেছি কারণ টাকা-পয়সা শেষ হয়ে গেছে। টাকা-পয়সা আবার সংগ্রহ করে তারপরে চলে যাব।’

আরও পড়ুন: যুবদলকর্মী শাওনের মৃত্যু: ভিডিওতে যা ধরা পড়ল

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘অ্যাসিড নিক্ষেপে আক্রান্ত সুমাইয়া ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন, তিনি আমাদের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করেছেন। তিনি খুব কষ্টে আছেন কারণ যারা তাকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেছিলেন তাদের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছিল তার চিকিৎসার সম্পূর্ণ টাকা তারা বহন করবে কিন্তু এখন ভারতে সম্পূর্ণ চিকিৎসা না শেষ হওয়ার আগেই তারা টাকা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা এ বিষয়ে বিভিন্ন এনজিও ও বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করছি।’

এ ব্যাপারে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার তদন্ত শেষে তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে এবং মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। মেয়েটি আমাকে যে বার্তাটি দিয়েছে সেটি আমরা মানবিক দৃষ্টিতে দেখেছি।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!