Feni (ফেনী)পরশুরাম

পরশুরাম উপজেলার সরকারি অফিস খোলে পুরোনো সময়ে তবে বন্ধ নতুন নিয়মে

পরশুরাম | তারিখঃ September 6th, 2022 | নিউজ টি পড়া হয়েছেঃ 492 বার

পরশুরাম প্রতিনিধি->>

পরশুরামে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন নিয়মে অফিস শুরুর নির্দেশনা মানছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেবাগ্রহীতাদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা শমসাদ বেগম গতকাল সোমবার সরকারনির্ধারিত সময় সকাল ৮টায় অফিসে হাজির হন।

এ সময় তিনি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে দেখেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস ছাড়া সব কটি অফিসে তালা ঝুলছে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসে উপস্থিত হননি। সব অফিসের কক্ষসহ প্রধান ফটকেও তালা ঝুলছে। এ সময় সেবাগ্রহীতারা অফিসের সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা ভূমি অফিস, বিআরডিবি, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, ভূমি, এলজিইডি, পরিসংখ্যান, সমাজসেবা, মৎস্য, সমবায়, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়, কৃষি অফিস, আনসার ভিডিবি, যুব উন্নয়নসহ উপজেলার বেশির ভাগ অফিসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ঘাটতি পূরণে গত ২৪ আগস্ট থেকে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলোর অফিসের সময়সূচি সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। গত ২২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে সিদ্ধান্ত শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর কক্ষ খোলা, অথচ তখনো তিনি অফিসে আসেননি। হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কোথায় জানতে চাইলে অফিস সহকারী বলেন, ‘স্যার একটু পরে আসবেন।’

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অফিসে গিয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। তাঁর কক্ষও খোলা। অথচ সকাল সাড়ে ১০টায়ও মৎস্য কর্মকর্তা অফিসে আসেননি। তাঁর কক্ষে দুজন অফিস সহকারী বসা।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বলেন, তিনি যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত হয়েছেন। কিন্তু ওএমএসের চাল বিতরণ কাজে তিনি গুথুমাতে ছিলেন। বেশির ভাগ কর্মকর্তাদের প্রায় একই উত্তর; তাঁরা অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন।

জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য এম সফিকুল হোসেন মহিম বলেন, তিনি একটি বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি। বিদ্যালয়ের একটি কাজে চলতি সপ্তাহে দুদিন উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে অফিসের গেটে তালা ঝুলতে দেখেন।

সফিকুল হোসেন আরও বলেন, সকালে ছেলেকে বিদ্যালয়ের দিয়ে তিনি শিক্ষা অফিসের কাজ শেষ করে ফেনী যাওয়ার কথা, কিন্তু সকাল ১০টা পর্যন্ত অফিসে কাউকে খুঁজে পাননি।

পরশুরাম উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল করিম মজুমদার বাদল বলেন, সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ঘাটতি পূরণে সকাল ৮টা থেকে অফিস শুরুর নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু পরশুরামে সরকারনির্ধারিত সময়ে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অফিসে পাওয়া যায় না। তাঁরা অফিস বন্ধ করার সময়ে ঠিকই নতুন নিয়ম মানছেন; তিনটার আগেই অফিস বন্ধ করে বাসায় চলে যান।

ইউএনও সৈয়দা শমসাদ বেগম বলেন, তিনি গত বৃহস্পতিবার, রোববার ও গতকাল সোমবার সরকারনির্ধারিত সময়ে অফিসে গিয়ে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের বিভিন্ন অফিস বন্ধ দেখতে পান। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি দপ্তরের কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। পরে এমন ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!