শেরপুরে মাটিচাপা দেয়া নারীর মরদেহ, জানা গেল হত্যারহস্য
<![CDATA[
শেরপুরের নালিতাবাড়ীর সীমান্তবর্তী জঙ্গল থেকে মাটি চাপা দেয়া নাছিমা বেগমের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে থানা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ৫ দিন পর লাশ উদ্ধার এবং লাশ উদ্ধারের ১১ দিন পর চাঞ্চল্যকর তথ্যের পাশাপাশি দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ২০ আগস্ট বিকেলে পূর্ব মানিককুড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন গ্রাম পুলিশ আমির আলীর স্ত্রী ও ৫ সন্তানের জননী নাছিমা বেগম (৩৫)। এরপর ২৩ আগস্ট নাছিমার স্বামী নালিতাবাড়ী থানায় নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ২৫ আগস্ট সকাল দশটার দিকে নাছিমার মা’সহ স্বজনেরা বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে বিশগিরি পাড়া গ্রামে সীমান্তবর্তী জঙ্গলে নাসিমার পুঁতেরাখা মরদেহের সন্ধান পান নাছিমার মা। হাতের চুরি এবং ওড়না দেখে মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন তিনি। খবর পেয়ে থানা পুলিশ, সিআইডি, সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ও র্যাব সদস্যরা গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে হেলিম মিয়া ওরফে ইলিমকে (৪০) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তবে সন্দেহভাজন অপর অপরাধী নজরুল ইসলাম (৩০) ততক্ষণে পালিয়ে যায়।
আরও পড়ুন : মাটি খুঁড়ে লাশ বের করল শিয়াল, হাতে চুড়ি দেখে শনাক্ত করলেন স্বামী
পুলিশি তদন্তে বেড়িয়ে আসে, ২০ আগস্ট শনিবার বিকেলে ওই বাগানের পাশে থাকা নজরুলের বাড়িতে গিয়ে ৫০ টাকা ধার চায় নাছিমা। এ সময় ৫০ টাকা ধার দেয় নজরুল। তবে স্ত্রী বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে পার্শ্ববর্তী ঝোপের আড়ালে উভয়ে শারীরিক সম্পর্ক জড়ায়। তবে ওই সময়ে বিষয়টি দেখে ফেলেন হেলিম ওরফে ইলিম। এ সময় বিষয়টি প্রকাশ করে দেবার ভয় দেখিয়ে নাছিমার গহনা খুলে নেবার চেষ্টা করেন তিনি। এক পর্যায়ে হেলিম নাছিমার ওড়না দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরে এবং নজরুলকেও ওড়না টেনে ধরতে বলে। উভয়ে ওড়নার দুইপাশ টেনে ধরলে নাছিমা শ্বাসরোধ হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে হেলিম নাছিমার বুকে কয়েকটি লাথি দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
এরপর হেলিমের কথামতো নজরুল বাড়ি থেকে কোদাল নিয়ে আসে এবং গর্ত করে নাছিমার মরদেহ মাটিচাপা দেয়। এ সময় নাছিমার অলঙ্কার খুলে নেয় হেলিম।
এদিকে পুলিশি তদন্তে নজরুলের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার বংশাল এলাকা থেকে নজরুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে উভয়ের জবানবন্দি গ্রহণকালে তারা দোষ স্বীকার করায় মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
]]>




