সাদা সোনাখ্যাত চিংড়ির রফতানি কমেছে
<![CDATA[
জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে উঠে আসে সাদা সোনাখ্যাত চিংড়ি। দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম খুলনা অঞ্চলের এই চিংড়িশিল্প। এক সময় দারুণ সম্ভাবনা জাগানো এ শিল্প দিনে দিনে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। গত পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে চিংড়ির উৎপাদন। ফলে কমছে রফতানিও।
জানা গেছে, চিংড়ি রফতানি থেকে আসে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা। কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে খুলনা অঞ্চলের চিংড়ির উৎপাদন ও রফতানির পরিমাণ। রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি দেশ হারাচ্ছে রফতানি বাজার।
এদিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চিংড়ির উৎপাদন ছিল ২৭ হাজার ৪৮৩ টন। আর ২০২১-২২ অর্থবছরে যার পরিমাণ কমে ২৫ হাজার ১২২ টনে দাঁড়িয়েছে।
মূলত লোনা পানির উৎস কমে যাওয়া, ভাইরাসের আক্রমণ, আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণে চাষিদের অনাগ্রহ, রোগমুক্ত রেণু না পাওয়াসহ নানা কারণে চিংড়ির উৎপাদন কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় আধুনিক চাষ পদ্ধতি গ্রহণ করে উৎপাদন বাড়িয়ে রফতানি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন: দশম পণ্য হিসেবে জিআই সনদ পেল বাগদা চিংড়ি
তারা বলছেন, বিভিন্ন রকমের সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ার কারণে তাদের উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। আপডেট কোনো টেকনোলজিও আসেনি। যার কারণে এখনও উন্নতির দিকে যেতে পারছেন না তারা।
এদিকে রফতানিকারকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন কমের কারণে রফতানি করতে পারছেন না তারা।
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হুমায়ুন কবীর বলেন, আমাদের রফতানি ছিল প্রায় ৬০ হাজার টন। কিন্তু সেটা ক্রমান্বয়ে কমতে কমতে একেবারে ৩০ হাজার টনে এনে পৌঁছেছে।
সি ফুড বাইং এজেন্ট এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক সুজন আহমেদ বলেন, কীভাবে উৎপাদন বাড়ানো যায়, কীভাবে বিদেশি বায়ারের কাছে আমরা বিক্রি করতে পারি তা নিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের সঙ্গে মিটিং করছে। কিন্তু এগুলোর চর্চা এখন আর হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: দেশে ভেনামি চিংড়ি চাষে সফলতা
আর উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বেশকিছু প্রকল্প হাতে নেয়ার কথা জানায় খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল। তিনি বলেন, চিংড়ি উৎপাদনের ক্রমধারাকে আমরা যাতে বৃদ্ধি করতে পারি এটা কিন্তু আমাদের মৎস্য অধিদফতর ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগের একটা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।
জেলায় চলতি অর্থবছরে ৫৯ হাজার ৩২২টি খামারে মোট ৩১ হাজার ১৩৫ হেক্টর ঘেরে চিংড়ি চাষ হয়েছে। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা মিলে গত অর্থবছরে চিংড়ি রফতানি হয় ৩৩ হাজার ২৭১ টন।
]]>




