দশ দিন ঘুরেও সার পেলেন না কৃষক রাজ্জাক
<![CDATA[
জামালপুরে কৃষকদের সার সংকট এখনও কাটেনি। বিক্রয় কেন্দ্র থেকে চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ তারা। বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সদর উপজেলার কেন্দুয়া নারিকেলী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি সার বিক্রয় কেন্দ্রে ভিড়। অনেকের হাতেই কৃষি কার্ড। কিন্তু তাতেও মিলছে না সার।
জানা গেছে, কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার দেয়া হচ্ছে না, আর যে সার দেয়া হচ্ছে তা জমির জন্য যথেষ্ট নয়। কৃষকরা বলেন, এই মুহূর্তে সার ক্ষেতে দেয়া প্রয়োজন। না দিতে পারলে ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাবে।
কেন্দুয়া ইউনিয়নের সোনাকাথা গ্রামের ৭০ বছর বয়সী কৃষক আব্দুর রাজ্জাক সারের জন্য ঘুরছেন ১০ দিন ধরে। বৃহস্পতিবার কেন্দুয়া বাজারে সার দেয়ার খবর শুনে সকাল ৮টা থেকে বিক্রয় কেন্দ্রে এসে বসে ছিলেন। দুপুর ১টা পর্যন্ত বসে থেকে তাকে বাড়ি ফিরতে হয়েছে খালি হাতে।
আরও পড়ুন: কৃষকরা পাটের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না
একই গ্রামের হাজি খলিলুর রহমান। শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় স্ত্রীকে পাঠিয়েছেন সারের জন্য। প্রচণ্ড গরমে ৫ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও সার পায়নি। তার আকুতি এক বস্তার সারের ব্যবস্থা করে দেন। আমার ক্ষেত মরে যাচ্ছে। পাতা লাল হয়ে গেছে। এ মুহূর্তে সার না দিলে ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাবে।
অন্য এক কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ’২ পাখি জমি আবাদ করেছি। এখন সার দিতে না পারলে ক্ষেত ধরে রাখা সম্ভব না। এ ফসল মার খেলে আমার মরণ ছাড়া উপায় থাকবে না।‘
রুমি ট্রেডার্সের বিসিআইসির ডিলার বলেন, ‘তারা ১৪০ বস্তা সার পেয়ে বিক্রি শুরু করেছেন। আগামীকাল আবার দেয়া হবে। দু-একদিনের মধ্যে কৃষকদের সারের চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে। আশুগঞ্জ থেকে সার আসতে বিলম্ব হওয়ায় এই সংকট হয়েছে।’
কৃষি অফিসের উপ-কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ জানান, কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার দেয়া হচ্ছে। সারের সংকট আর থাকবে না।
আরও পড়ুন: যশোরে আমনের মৌসুমে সার সংকট / বাজারে সার সংকট, হতাশ কৃষক
জামালপুর সদর উপজেলার ৫৬ জন ডিলারকে ৯২৪ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এদিকে কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের কথার সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের কথার কোনো মিলই পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষি অফিস বলছে, সারের কোনো সমস্যা নেই। কৃষকরা বলছেন, সার নেই। যার দরকার এক বস্তা তাকে দেয়া হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ কেজি সার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সার ডিলার বলেন, জামালপুরে কৃষকদের চাহিদা মাথায় রেখে সারের চাহিদা দিয়েছে কৃষি বিভাগ। পুরো জেলায় ৯২৪ মেট্রিক টন সার দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষি অফিসের নজরদারির অভাবেই এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
জেলায় এক লাখ ৯ হাজার ২৭ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
]]>




