কোহলির আক্ষেপ
<![CDATA[
২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর ইডেন গার্ডেনসে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে শেষবার সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন বিরাট কোহলি। এরপর কেটে গেছে প্রায় তিন বছর। দিনের হিসাবে যা ১০২০ দিন। অবশেষে সেই আক্ষেপ ঘুচল। সেঞ্চুরির গেরো কাটল কোহলির। এশিয়া কাপের নিয়মরক্ষার ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৬১ বল খেলে ১২টি চার ও ৬টি ছক্কায় অপরাজিত ১২২ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন বিশ্বসেরা এ ব্যাটার। ১০৪ ম্যাচের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটি ছিল কোহলির প্রথম সেঞ্চুরি।
সেঞ্চুরিখরার মাঝের সময়টা অনেক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে কোহলিকে। ক্রিকেট বোদ্ধারা সুযোগ পেলে উপদেশের বাণী শোনাতেও ভোলেননি তাকে। যদিও দূর থেকে দেয়া সেসব উপদেশ মোটেও ভালো লাগেনি কোহলির। কিছুদিন আগে এ নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন কোহলি। আফগানদের বিপক্ষে সেঞ্চুরি পাওয়ার পর, আরও একবার অভিমানী সুর তার কণ্ঠে।
আগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে নিজের ব্যাটিং নিয়ে কোহলি বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। আমি আপ্লুত। আড়াই বছর ধরে অনেক কিছু শিখেছি। শতরানের পর আমি একটু অবাকও হই। কারণ, এই ফরম্যাট থেকে যে আমি শতরান পেতে পারি, সেটা ভাবনার বাইরে ছিল। ঈশ্বরের আশীর্বাদেই এটা সম্ভব হয়েছে। কঠোর পরিশ্রম করেছি। এ মুহূর্ত শুধু আমার নয়, গোটা দলের কাছেই বিশেষ আবেগের।’
আরও বলেন, ‘আমাকে অনেকে পরামর্শ দিয়েছে। অনেকের উপদেশ শুনতে পাচ্ছিলাম। সবাই বলছিল, আমি এখানে ভুল করছি, ওখানে ভুল করছি। আমি কাউকে বোঝাতে পারছিলাম না, আমার মনের মধ্যে কী চলছে। মানুষ আপনাকে উপদেশ দেবে। কিন্তু আপনার মনের কথা কেউ বুঝতে পারবে না।’
২০০৮ সালে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সব ফরম্যাট মিলিয়ে ৭০টি সেঞ্চুরি করেছেন কোহলি। এরপর শতরান না পেলেই তাকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হতো। সেটিও মনে করিয়ে দিলেন কোহলি, ‘৬০ রান করলেও সবাই বলছিল, আমি ব্যর্থ হয়েছি। খুব অবাক লাগত। কিন্তু কিছু করার ছিল না। নিজেকে বুঝিয়েছি। শূন্য থেকে শুরু করেছি।’
ছন্দে ফেরার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানান কোহলি। বলেন, ‘মাঝের এই কয়েকটা মাসের জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। কারণ, এই সময়টা শুধু ক্রিকেট নয়, জীবনের অন্য মানে আমাকে বুঝিয়েছে। আমি আবার শূন্য থেকে শুরু করেছি। আবার খেলতে ভালো লাগছে।’
আরও পড়ুন: ১০২০ দিন পর শতকের দেখা পেলেন কোহলি
শতরানের পর মাথার মধ্যে কী চলছিল–এমন প্রশ্নের উত্তরে কোহলি বলেন, ‘অনেক কিছু চলছিল। দলে ফেরার সময় প্রত্যেকে স্বাগত জানিয়েছিল এবং আমি যেভাবে খেলতে চাই, সেভাবেই খেলতে বলেছিল। বাইরে থেকে অনেকে অনেক কথাই বলছিল। আমরা পাত্তা দিইনি।’
দুঃসময়ে স্ত্রী আনুশকার অবদানের কথাও বললেন কোহলি। বলেন, ‘জীবনের কঠিন সময়ে কোনো মানুষের সঙ্গে কথাবার্তা বললে, পুরো বিষয়টি খুব সহজ হয়ে যায়। আমার ক্ষেত্রে সেই কাজটা করেছে আনুশকা। কঠিন সময়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে।’
এশিয়া কাপের আগে এক মাস খেলা থেকে দূরে ছিলেন কোহলি। বিশ্রামে থাকাকালীন ব্যাটও ছুঁয়ে দেখেননি তিনি। আর বিশ্রামই বড় টনিক হিসেবে কাজ করেছে বলে জানান কোহলি। বলেন, ‘খেলা থেকে দূরে থাকার সময় অনেক কিছু শিখেছি। দলে ফেরার পর এমন নয় যে অনেক বেশি রান করব, ওমনটা ভেবে এসেছিলাম। কত দিন শতরান পাইনি সেসবও মাথায় ছিল না। শুধু ভেবেছিলাম, এই খেলা থেকে কত কী পেয়েছি। এটাই আমার মনকে শান্ত করে তুলেছিল। তরতাজা হয়ে নেমেছিলাম। খেলা থেকে বিরতি নেয়ার পরই বুঝেছিলাম, শারীরিক এবং মানসিকভাবে কতটা ক্লান্ত ছিলাম। খেলায় এত প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা থাকে যে, সেটা নিয়ে ভাবার সময় থাকে না। আমার পক্ষে বিরতি নেয়া শাপে বর হয়েছে। তারপর যখন খেলা শুরু করলাম, তখনই বুঝতে পারলাম ছন্দ ফিরে পাচ্ছি। ক্রিজে নেমে সেটা কাজে লাগানোই দরকার ছিল।’
এবারের এশিয়া কাপের রানের মধ্যে দিয়েই শুরু করেছিলেন কোহলি। হংকং ও পাকিস্তানের বিপক্ষে হাফ সেঞ্চুরি করেন। তাই নিজেই বুঝতে পারছিলেন রানে ফিরতে যাচ্ছেন। তবে সেঞ্চুরির ইনিংসে অবাক হয়েছেন তিনি। কোহলি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছিলাম ধীরে ধীরে রানের মধ্যে ফিরছি। কিন্তু আজ (বৃহস্পতিবার) যেভাবে ব্যাট করেছি, সেটা দেখে আমি নিজেই অবাক হয়ে গিয়েছি।’
]]>




