মানসম্পন্ন পরীক্ষাগারের অভাবে খাদ্যমান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না
<![CDATA[
আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষাগারের স্বল্পতার অভাবে খাবারের মান নিশ্চিত করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ বিষয়ে কাজ করার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃক্ষের চেয়ারম্যান আবদুল কাইউম সরকার।
রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের (বিআইসিসি) কার্নিভ্যাল মিলনায়তনে ‘ফুড অ্যান্ড কেমিক্যাল ল্যাব এক্সপো ২০২২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ ও খাদ্যের গুণগতমান পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ও আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা বলেন আবদুল কাইউম সরকার।
কাইউম সরকার বলেন, ‘ট্রেসিবিলিটির নীতিমালা নিয়ে আমরা কাজ করছি। হাইজেনিক মেইনটেন করা হয়েছে কি না, তা চেক করতে কাজ করছি। বাংলাদেশ থেকে ৩৮টি এক্সপো ল্যাব আমরা এখানে নিয়ে এসেছি। এর মধ্যে ৬টি হলো ল্যাব ইকুইপমেন্ট সাপ্লাইসম্পন্ন। এসব ল্যাবের মাধ্যমে খাবারের গুণগতমান নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলমান। তবে আমাদের আরও উন্নত ও মানসম্পন্ন আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব দরকার। সে তাগিদেই বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে ফুড অ্যান্ড কেমিক্যাল ল্যাব এক্সপো।’
আরও পড়ুন: নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার: প্রধানমন্ত্রী
তিনি আরও বলেন, যথাযথ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহার, সরকারি-বেসরকারি অংশীদার ও অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়ের ভিত্তিতে খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তা মানদণ্ড প্রয়োগ করে তার প্রতিষ্ঠান। খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রয়ের বিভিন্ন ধাপে সংশ্লিষ্টদের প্রক্রিয়া, চর্চা ও পরিপালনে নজরদারি, নিয়ন্ত্রণেও একই কথা প্রযোজ্য। পাশাপাশি পরীক্ষাগার, সরকার, ব্যবসায়ী, বিজ্ঞানী, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের এক ছাদের নিচে এনে খাদ্যপণ্যের নিরাপদতা ও আন্তর্জাতিক মান অর্জনের গুরুত্ব সম্পর্কে জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়াতে একটি ভালো প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে ফুড অ্যান্ড কেমিক্যাল এক্সপো।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ বা খাদ্য সুরক্ষা বলতে খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে খাদ্য ব্যবহার, প্রস্তুতকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বা বিদ্যাকে বোঝায়। কোনো সাধারণ খাদ্য গ্রহণের পর দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একই ধরনের অসুস্থতায় পতিত হলে সেই ঘটনাকে খাদ্যবাহিত অসুস্থতার প্রাদুর্ভাব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
স্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে বেশ কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করা আবশ্যক। খাদ্য প্রতিরক্ষার আরেকটি সংশ্লিষ্ট ধারণা, যেখানে খাদ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটানো কিংবা ভেজাল মেশানো প্রতিরোধ করা হয়। খাদ্য সুরক্ষা (নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ) ও খাদ্য প্রতিরক্ষা একত্রে ভোক্তাদের ক্ষতি প্রতিরোধ করে।
খাদ্য সুরক্ষাকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হলো শিল্পকারখানা থেকে বাজার পর্যন্ত সুরক্ষা। অপরটি হলো বাজার থেকে ক্রেতা বা ভোক্তা পর্যন্ত সুরক্ষা। শিল্পকারখানা থেকে বাজার পর্যন্ত খাদ্য সুরক্ষার মধ্যে খাদ্যের উৎস, খাদ্যের মোড়কের ওপর তথ্য ছাপানো, খাদ্যের স্বাস্থ্যবিধি, খাদ্য রুচিবর্ধকের ব্যবহার, খাদ্যে কীটনাশক, আমদানি ও রফতানি করা খাদ্য সরকারের পর্যবেক্ষণ এবং খাদ্য প্রত্যয়ন ব্যবস্থা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে খাদ্যে রোগ ছড়াতে পর্যাপ্ত সুপেয় পানি বা পানীয় জলের অভাব লক্ষ করা যায়। তাত্ত্বিকভাবে খাদ্যের বিষক্রিয়া শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যক্তির সংখ্যাধিক্যের কারণে এবং সমস্ত সাবধানতা অবলম্বনের পরও রোগজীবাণু খাদ্যে প্রবেশের ঝুঁকি থাকে বলে এরূপ প্রতিরোধ অর্জন করা দুরূহ বলেও মনে করেন অনেকে।
আরও পড়ুন: ‘ভোক্তার সচেতনতা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ভূমিকা রাখবে’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুযায়ী খাদ্য সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধির পাঁচটি মূলনীতি রয়েছে, সেগুলো নিম্নরূপ:
১. মানুষ, গৃহপালিত প্রাণী ও কীটপতঙ্গ থেকে রোগজীবাণু খাদ্যে সংক্রমণ হওয়া প্রতিরোধ করা।
২. কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা করে রাখা, যাতে রান্না করা খাবারে জীবাণুর সংক্রমণ না হতে পারে।
৩. পর্যাপ্ত দৈর্ঘ্যের সময় ধরে ও যথাযথ তাপমাত্রায় খাদ্য রান্না করা, যাতে খাদ্যের রোগজীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়।
৪. সঠিক তাপমাত্রায় খাদ্য সংরক্ষণ করা।
৫. নিরাপদ পানি ও নিরাপদ কাঁচামাল ব্যবহার করা।
]]>




