ছয় মাসে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ২৩৬০ জনের, সংখ্যায় উদ্বিগ্ন নয় বিআরটিএ
<![CDATA[
চলতি বছর প্রথম ছয় মাসে প্রায় তিন হাজার সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৩৬০ জন।
দুর্ঘটনার জন্য বেপরোয়া গতি ও যততত্র যাত্রী ওঠানামা এবং পথচারীদের অসচেতনতাকেই দায়ী করছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বলছে, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় প্রাণহানির সংখ্যা উদ্বেগজনক নয়।
দিন দিন বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিলও। বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২ হাজার ৮১৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৩৬০ জন। আর গত মাসে (আগস্ট) সারা দেশে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৭২ জনই মারা গেছেন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়, যা মোট প্রাণহানির ৩৩ দশমিক ১৪ শতাংশ।
দুর্ঘটনা বাড়ার পেছনে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, চালকদের মাদকাসক্তি, বেপরোয়া গতি ও যততত্র যাত্রী ওঠানামা ও পথচারীদের অসচেতনতাকেই কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী
বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘আনফিট গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে, গতিটাও আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। আরেকটি বড় চিন্তার বিষয় হচ্ছে, আমাদের চালকদের বিরাট একটা অংশ মাদকের সঙ্গে জড়িত। ফলে সড়কে যখন তারা গাড়ি চালায় পুরো মনোভাব এবং ঝুঁকিকে ঝুঁকি মনে করছে না।’
সড়ক দুর্ঘটনায় গত বছর যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তাদের ১৩ শতাংশই শিক্ষার্থী। এর পেছনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় যানবাহনের গতিসীমা নির্ধারিত না থাকা, পর্যাপ্ত গতিরোধক ও ফুটওভার ব্রিজ না থাকাকে দায়ী করেন এই যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ।
তবে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় বিআরটিএ। তারা বলছে, জনসংখ্যা অনুপাতে এটা খুব বেশি নয়।
বিআরটিএ-র পরিচালক মাহবুব-ই রব্বানী বলেন, ‘সারা পৃথিবীতে কিন্তু সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এ পরিসংখ্যানটা করে না। এটা একটা গড় হিসাব করে। এক লাখ মানুষের মধ্যে দুর্ঘটনায় কতজন আহত হয়, কত নিহত হয়–এভাবে হিসাব করে। সেই প্রেক্ষাপটে যদি হিসাব করা হয়, তাহলে বিগত দিনের তুলনায় দুর্ঘটনা বাড়ছে, তা নয়।’
]]>




